We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Abhishek Banerjee:অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’-এ MBBS পাশ না করা, ডাক্তারি পড়ুয়াদের দিয়েই চলত চিকিৎসা, ভয়াবহ অভিযোগ প্রকাশ্যে, কোথা থেকে আসত ওষুধ ?
সন্দীপ সরকার, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, সুদীপ্ত আচার্য, কলকাতা: অভিষেকের সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মণ্ড মডেলের আসল ডায়মণ্ড নাকি ছিল, এই সেবাশ্রয় প্রকল্প। সেই সেবাশ্রয় প্রকল্পেই এবার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে, যেটা সত্যি হলে আদতে ক্রিমিন্যাল অফেন্স ! ভয়াবহ এই অভিযোগ প্রকাশ্যে এল ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’-এবিপি আনন্দ-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে। অভিযোগ যারা ডাক্তারি পড়ুয়া, এখনও এমবিবিএস ডিগ্রি পাননি, তাঁরা নাকি সেবাশ্রয় প্রকল্পের অধীনে চিকিৎসা করেছেন। ওষুধের প্রেসক্রিপশন লিখেছেন। এমনকি অভিযোগ হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গিয়ে, তাঁদের নিউরোলজিস্ট বা কার্ডিওলজিস্ট পরিচয় দিয়ে রোগী দেখানো হয়েছে। এই কাজ এবং কাজের প্রচারের প্রধান কারিগর অবশ্যই ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত, জাহাঙ্গির খান ওরফে পুষ্পা। অভিযোগ, যে রোগীদের সেবাশ্রয় ১ ও সেবাশ্রয় ২ ক্যাম্পে চিকিৎসা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা হয়েছে এমবিবিএস পাশ না করা , ডাক্তারি পড়ুয়াদের দিয়ে।
ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজন। মানুষের সেবার নামে, ঢালা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। নিজের লোকসভা কেন্দ্রে 'সেবাশ্রয়'-কে একেবারে মডেল হিসেবে তুলে ধরেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবার ছাড়িয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর গ়ড় নন্দীগ্রামেও করেছেন 'সেবাশ্রয়'-এর ক্যাম্প। ভোটের প্রচারে তাঁর অন্যতম হাতিয়ার ছিল 'সেবাশ্রয়'।আর সাধারণ মানুষও দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার আশায় লাইন দিতেন সেখানে।কিন্তু চিকিৎসা দেওয়ার নামে আসলে কী হত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'সেবাশ্রয়'-এ? চিকিৎসার নামে আসলে কী পেয়েছেন রোগীরা?একে একে মুখ খুলছেন চিকিৎসকরাই। যাঁরা একটা সময় মানুষের প্রকৃত সেবার স্বার্থে 'সেবাশ্রয়'-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ IMA চিকিৎসক ও যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, লক্ষ্য করেছিলাম যে গাড়িগুলো পাঠানো হতো সেগুলো আইপ্যাকের নামে। রোগীদের দেওয়ার জন্য যে ওষুধ দেওয়া হতো সেগুলো প্রথিতযশা কোন কোম্পানির নয়। তখন যেতেন সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার, ফোর্থ ইয়ারের ছাত্ররা। তারা যেতে বাধ্য হতেন। এটাই ছিল থ্রেড কালচার। অদ্ভুত ব্যাপার যখন সিটি স্ক্যান, MRI-এর
প্রয়োজন পড়ত, তখন নির্দিষ্ট কিছু প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হত। ভয় ছিল যাতে দূরে ট্রান্সফার না করে দেয়। আশা ছিল যদি কাছাকাছি ট্রান্সফার হয়। এই কারণে আমরা যেতে বাধ্য হতাম। কিন্তু এতে আখেরে আমাদের ক্ষতি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ IMA চিকিৎসক ও সদস্য প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, যারা মডার্ন মেডিসিন প্র্যাকটিস করে ওখানে তাদের খুব একটা রোল ছিল না। মূল ভূমিকা প্লে করত আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য যে পারমিশন দরকার সেই পারমিশন নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ওখানে হয়েছে কিনা আমাদের খুব সন্দেহ আছে। ১০০ শতাংশ তদন্তের আওতায় আসা উচিত। ওষুধ কোথা থেকে এলো জানা দরকার।
২০২৫ সাল থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ২ দফায় 'সেবাশ্রয়'-এর আয়োজন করা হয়েছিল।পরে তা হয় নন্দীগ্রামেও।কিন্তু সেখানে গিয়ে যে আসলে কী মিলেছে, তা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের মান্না পরিবারের থেকে আর ভাল কে জানে। তাঁদের ৩ বছরের মেয়ে কৃতী মান্না,'আর্টারিওভেনাস ম্যালফরমেশন' (AVM)-এ আক্রান্ত।জন্ম থেকে এই জটিল রোগেই আক্রান্ত শিশুটি। যার জেরে ডান হাত অস্ত্রোপচার করে বাদ দিতে হয়েছে।গত বছরের ২৪ জানুয়ারি,বিষ্ণুপুরের সেবাশ্রয় ক্যাম্পে মেয়েকে নিয়ে যান তাঁরা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।
কৃতী মান্নার মা রুমা মান্না বলেন, আমাদের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। উনি(অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) আশ্বাস দিলেন যে আপনি একদম চিন্তা করবেন না। আপনার বাচ্চার পুরোপুরি দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। চিকিৎসা করানো হয়ে গেলেও ওর পড়াশোনার দায়িত্বও আমি নিচ্ছি।’
এবিপি আনন্দ: কে বললেন?
উত্তর: অভিষেক ব্যানার্জি।
কিন্তু প্রতিশ্রুতিই সার। কৃতী মান্নার বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না বলেন,অভিষেক ব্যানার্জি কিন্তু আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। গরমিল হচ্ছে বুঝে অনেক চিকিৎসক পরে 'সেবাশ্রয়'-এ যাওয়া বন্ধ করে দেন।পশ্চিমবঙ্গ IMA চিকিৎসক ও সদস্য প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আমরা শেষ দিকে আর যাইনি। তখন মনে হল, যে প্রয়োজনে শুরু করেছিলাম সেই প্রয়োজন আর নেই। মডার্ন মেডিসিনের ডাক্তারদের গুরুত্বটা ওখানে কম ছিল। আয়ূষ ডাক্তাররাই ওখানে সবটা অর্গানাইজ করেছে।বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন,এটাই তো তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল পারে না, এমন কোনও কাজ নেই। তৃণমূল মানে বিকেলে ভোরের ফুল। এবং সেখানে খুব স্বাভাবিক হোমিপ্যাথির ডাকার অ্যালোপাথির প্রেসক্রিপশন লিখবে।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - States. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
রীতম তালুকদার