We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Assam News : 'PAN ও ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়', ১৫ নথি দেওয়া স্বত্ত্বেও ব্যক্তিকে বিদেশি ঘোষণা আদালতের; কারণ এই...
১৫টি নথি জমা করেও নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হলেন অসমের গুয়াহাটির এক বাসিন্দা। তাঁর জমা করা নথিগুলির মধ্যে ছিল- NRC রেকর্ডস, ভোটার তালিকা, জমির কাগজপত্র, PAN কার্ড ও ভোটার আইডি।
'বার অ্যান্ড বেঞ্চ'-এর তথ্য অনুযায়ী, গুয়াহাটি হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, 'ফরেনার্স অ্যাক্ট'-এর ৯ নম্বর ধারার অধীনে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি বিদেশি নন—আমিনুল হক তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। তিনি ২০১৯ সালের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যে আদেশে তাঁকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তথ্য অনুযায়ী, হক জানিয়েছেন যে তিনি জন্মসূত্রে একজন ভারতীয় নাগরিক এবং ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের নির্ধারিত সময়সীমার আগে অসমে তাঁর পরিবারের অবস্থানের প্রমাণস্বরূপ নথিপত্র জমা দিয়েছেন।
এর মধ্যে ছিল ১৯৫১ সালের এনআরসি (NRC)-র নথি, ১৯৬৬ সাল ও তার পরবর্তী সময়ের ভোটার তালিকা, ১৯৭৩ সালের জমি বিক্রয় দলিল, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি এবং স্কুলের নথিপত্র। নথিপত্র পর্যালোচনা করার পর হাইকোর্ট জানায় যে, হক ভারতের নাগরিক—তা প্রমাণ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
Bar and Bench অনুযায়ী আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদিও আবেদনকারী ১৫টি (পনেরোটি) নথিপত্র প্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছেন, তবুও ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৬৪’-এর ৯ নম্বর ধারার অধীনে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের যে দায়ভার তাঁর ওপর ছিল—অর্থাৎ তিনি যে বিদেশি নন বরং একজন ভারতীয় নাগরিক—তা পালনে এই নথিপত্রগুলি তাঁকে সহায়তা করেছে বলে মনে হয় না।
হাইকোর্ট বলেছে যে, শুধুমাত্র সরকারিভাবে ইস্যু করা পরিচয়পত্র দিয়ে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায় না। আদালতের বক্তব্য, "এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে প্যান কার্ড এবং এপিক (EPIC) নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।"
আদালত ১৯৫১ সালের এনআরসি (NRC)-র কম্পিউটার-জেনারেটেড বা কম্পিউটার-সৃষ্ট অনুলিপির ওপর হকের নির্ভরতার বিষয়টিও খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে, ইলেকট্রনিক নথির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যেভাবে প্রমাণ করা প্রয়োজন, এক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
হাইকোর্ট বলেছে যে, হক নিজের এবং তিনি যাদের নিজের পূর্বপুরুষ বলে দাবি করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কোনও নথিপত্র-ভিত্তিক সংযোগ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ওই ব্যক্তি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, তাঁর বাবা-মা ও দাদু-ঠাকুমার নথিপত্রে বানানের পার্থক্যের কারণ ছিল ক্ল্যারিকাল ভুল। তিনি আরও জানান যে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে জমি হারিয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিবারকে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে সরে যেতে হয়েছিল। আর এ কারণেই বিভিন্ন এলাকার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম উঠে এসেছে। তাতে আদালত উল্লেখ করেছে যে, তারা বানানগত ছোটখাট ভুলকে গুরুত্ব দেয় না। আদালত রায় দিয়েছে যে, বিভিন্ন গ্রামে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলি যে আসলে একই পরিবার, তা ওই ব্যক্তি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
হাইকোর্ট ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’-এর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ খুঁজে পায়নি এবং হকের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের ২০১৯ সালের আদেশটি বহাল রইল। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক সম্প্রতি জানিয়েছে যে, ভারতীয় পাসপোর্ট কেবল একটি ভ্রমণ নথি এবং নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই রায়টি এল।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - India. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
দীপ মজুমদার