We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Baruipur Incident : '১০ হাজার টাকার টোপ...!' বারুইপুরকাণ্ডে ধৃতদের জেরায় চাঞ্চল্য়কর তথ্য়, কী কী জানা গেল ?
কলকাতা : আর জি করের পর বারুইপুর কাণ্ড গোটা বাংলাকে নাড়িয়ে তুলেছে। মাত্র ১২ বছরের নাবালিকার উপর এভাবে পাশবিক অত্যাচারের ঘটনায় আগুন জ্বলছে মানুষের মনে। শনিবার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য উপহার কিনতে বেরোয় ক্লাস সিক্সের নাবালিকা। তার পর থেকেই আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিকেল থেকে সন্ধা, রাত গিড়ালেও খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। রবিবার সকালে পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় গোটা এলাকায়। রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্তকে।
ঘটনার জেরে, ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যুও হয়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা ও রেল স্টেশন জুড়ে চলে অবরোধ। দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয় রেল চলাচল। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বারুইপুর থেকেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ ৩ অভিযুক্ত গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আরও ২ অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার। ৬ সদস্যের SIT গঠন করে বারুইপুরকাণ্ডের তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারুইপুর সহ নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। আরও ৩ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আর এই জেরায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। যা শুনে পুলিশও হতবাক।
জেরায় কী কী তথ্য উঠে এসেছে ?
পুলিশের জেরায় জানান যায়, ঘটনাস্থলের কাছেই ঝুপড়িতে বসে নেশা করছিল ধৃত আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার। ধৃত প্রভাসকে নাবালিকাকে তুলে আনতে বলা হয়। আর এই তুলে আনার জন্য ধৃত প্রভাসকে ১০ হাজার টাকার টোপ দেয় তারা। কথা অনুযায়ী, নাবালিকাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে তুলে আনে প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের দাবি, এরপর চলে নির্মম অত্যাচার। যৌন নির্যাতন করার পর, বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেয় নাবালিকাকে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে কী উঠে এসেছে?
নির্যাতন থেকে খুন, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ছত্রে-ছত্রে ভয়াবহ নৃশংসতার দিক ফুটে উঠেছে। মানুষ সত্যিই এতটা নৃশংস হতে পারে? প্রশ্ন অনেকের মনে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃত নয়, জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলা হয় নাবালিকাকে। কারণ, ফুসফুসে মিলেছে কাদা জল। খুন করার পর যদি দেহ জলে ফেলা হত, তবে ফুসফুসে কাদা মিশ্রিত জল প্রবেশ করবে না। একমাত্র ডুবে মৃত্যু হলেই এটা সম্ভব। সুতরাং, নির্যাতনের পর নাবালিকাকে যখন বস্তাবন্দি করে জলে ফেলা হয়, তখনও সে বেঁচে ছিল বলেই পুলিশের অনুমান।
তবে জলে ফেলার আগে বীভৎস অত্যাচারের শিকার হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণীর নাবালিকা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবালিকার দেহে আছে একাধিক ক্ষতচিহ্ন। গোপনাঙ্গেও আছে আঘাতের চিহ্ন। কোনও ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার কারণে এই ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। যৌন নির্যাতন করে মাথায় আঘাত করার পর বস্তায় ভোরে ফেলে দেওয়া হয় জলে। মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এক, আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং দুই, জলে ডুবে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
অরিন্দম প্রধান