Bengal Cricket: 'TMC সরকারের সুবিধাভোগী', মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি, 'ভোটে লড়েননি কেন?' পাল্টা প্রশ্ন অভিষেকের

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা একটা চিঠি। আর সেখানে প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জানিয়ে শোরগোল ফেললেন ময়দানের প্রবীণ ক্রীড়া প্রশাসক সমর পাল। যিনি এরিয়ান ক্লাবের বর্তমান সচিব।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা একটা চিঠি। আর সেখানে প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জানিয়ে শোরগোল ফেললেন ময়দানের প্রবীণ ক্রীড়া প্রশাসক সমর পাল। যিনি এরিয়ান ক্লাবের বর্তমান সচিব। তিনি নিজে সিএবি-র প্রাক্তন কর্তা। জবাবে তোপ দাগলেন অভিষেকও। সব অভিযোগ নস্যাৎ করে তিনি বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন, কারও পরামর্শে এসব করছেন না তো সমর? সব মিলিয়ে উত্তাল বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) একটি চিঠি লেখেন সমর পাল। তিনি অভিযোগ করেন, অভিষেক ডালমিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনে আসা নিষ্কণ্টক ছিল না। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সাহায্য নিয়ে অভিষেক সিএবি-র পদাধিকারী হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সমর। সবচেয়ে বড় কথা, সমর অভিযোগ করেছেন ২০১৯ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনিই ছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার। কিন্তু তৎকালীন সরকারের সাহায্যে সিএবি প্রেসিডেন্ট হন অভিষেক।

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সমরের অভিযোগ, 'আমি দেখেছি অভিষেক ডালমিয়া ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠি লিখে ও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ময়দানের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। আমি অবাক কারণ তিনি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি। যদিও মনে হয়েছে তিনি সরকারকে একটি ক্রীড়া সংস্থার বিরুদ্ধে নিয়ে যেতে চাইছেন। যে সংস্থায় তিনি নিজে সর্বোচ্চ মসনদে ছিলেন এবং লোঢা আইন মেনে এখন কোনও পদে নেই।'

এরপরই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন সমর। লিখেছেন, 'তৃণমূল সরকারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। ২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়া প্রয়াত হন আর তার এক সপ্তাহের মধ্যে অভিষেককে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে গিয়ে সিএবিতে পদ পাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল। তার আগে পর্যন্ত তিনি কোনও কমিটিতে ছিলেন না, সংস্থার হয়ে কাজ করেননি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সমবেদনাবশত তাঁকে সিএবি সচিব করেন, যাঁরা সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন এরকম অনেককে বঞ্চিত করে।'

আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন সমর। লিখেছেন, '২০১৭ সালে আমি সিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট হই এবং ২০২০ পর্যন্ত সেই পদে ছিলাম। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হয়ে চলে যান। সেই সময় আমিই ছিলাম সিএবি প্রেসিডেন্ট হওয়ার দাবিদার। সব সদস্যের সমর্থনও ছিল আমার পক্ষে। কিন্তু অভিষেক ডালমিয়া ফের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চলে যান এবং নিজের প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত করেন। ২০১৫ সালে তাঁর বাবা জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর থেকে চার বছর সিএবি সচিব হিসাবে ও তিন বছর প্রেসিডেন্ট হিসাবে থেকেছেন অভিষেক। আর কোনও ব্যক্তি সিএবি প্রশাসনে টানা এত লম্বা মেয়াদকাল পাননি। তাই এই ব্য়ক্তির তোলা অভিযোগ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি।'

সমরের চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই ময়দানে হইচই শুরু হয়ে যায়। অনেকেই বলাবলি করতে শুরু করেন, গোটাটাই কি সিএবি-র ক্ষমতা দখলের লড়াই? বঙ্গ ক্রিকেটের প্রশাসনে এরকম লড়াই কখনও দেখা যায়নি বলেও মনে করছেন অনেকে।

অভিষেক নিজে সমর পালের অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন? এ ব্যাপারে এবিপি লাইভ বাংলা যোগাযোগ করেছিল প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। তিনি পাল্টা একের পর এক প্রসঙ্গ টেনে কাঠগড়ায় তুললেন সমর পালকে। বললেন, 'সিএবি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে ওঁকে দাঁড়াতে দিইনি বলে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনও সময়ই ওঁকে আটকানো হয়নি বা প্রার্থী না হতে বলা হয়নি। তার চেয়েও বড় কথা, সমর পাল দাবি করলেও সেই সময় তিনি সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন না কারণ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর মেয়াদকাল শেষ হয়ে গিয়েছিল। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেই কেউ প্রেসিডেন্ট পদের দাবিদার হয়ে যান না। তার জন্য নির্বাচনী পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। যতদূর জানি গত তিন দশকে কেউ ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে সিএবি প্রেসিডেন্ট হননি। ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে একমাত্র ব্যতিক্রম হিসাবে যা হয়েছিলেন আমার অধুনাপ্রয়াত বাবা। চিঠিতে সমর পাল নিজেকে সিএবি-র প্রাক্তন সচিব ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দাবি করেছেন। তবে তিনি সচিব ছিলেন না, যুগ্মসচিব ছিলেন।'

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠির দাবি মতো সিংহভাগ সিএবি সদস্যের সমর্থন কি সমরের দিকে ছিল? অভিষেক কটাক্ষের সুরে বলছেন, 'এটা পুরোপুরি ওঁর কল্পনাপ্রসূত। ভিত্তিহীন দাবি। ইতিহাস বলছে, তিনি বারবার আমার বাবার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন আর প্রত্যেকবার হেরেছেন। আমার বিরুদ্ধে তিনি ভোটে দাঁড়ালেও স্বাগত জানাতাম। ওঁকে হারিয়ে পদে আসতে পারলে আমি খুশি হতাম।'

অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, 'যে সময়ে এই অভিযোগ তোলা হল তাতে এর নেপথ্যে কোনও গোপন আঁতাত বা অভিসন্ধি নেই তো? এমনও মনে হচ্ছে যে, কারও কথায়, পরামর্শে, প্রভাবে তিনি এমন করে থাকতে পারেন। হয়তো এমন কারও কথায় এটা করেছেন, এরিয়ান ক্লাব পরিচালনার সঙ্গে যিনি কোনওভাবে জড়িত।' কার দিকে ইঙ্গিত করছেন অভিষেক? তিনি নিজে ভাঙতে চাইলেন না। 

২০ জুলাই সিএবি-র যুগ্মসচিব নির্বাচনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। ১২ জুলাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে সরগরম সিএবি।

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Sports. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - Sports

Read Previous

Gold Monetization Scheme: ঘরে রাখা...

Read Next

Chandrima Bhattacharya:...