We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Bengal Cricket: ৭০ পেরিয়ে যাওয়ায় পদত্যাগ সিএবির অ্যাপেক্স কমিটির সদস্যের, ফের প্রশ্ন সহ সভাপতির বয়স নিয়ে
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: এ যেন এক যাত্রায় পৃথক ফল।
প্রকৃত জন্মতারিখ অনুযায়ী হয়তো আরও মাস ছয়েক টেনে দেওয়া যেত। কারণ, সিএবি-র রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৪ জানুয়ারি, ১৯৫৭। কিন্তু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অনুযায়ী গত ১৩ জুন সত্তর পূর্ণ করেছেন সিএবি-র অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য আশিস চক্রবর্তী। বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে যিনি সিএবি-তে এসেছিলেন। অ্যাপেক্স কমিটিতেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও অনুমোদিত সব সংস্থার সংশোধিত গঠনতন্ত্রে সাফ লেখা আছে, বয়স সত্তর পেরিয়ে গেল আর কোনও পদে থাকা যাবে না। তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরাসরি সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এলেন আশিস। জানিয়ে দিলেন, আর অ্যাপেক্স কমিটিতে থাকছেন না, ইস্তফা দিলেন।
অথচ সেই একই সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টের বয়স নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ। সংশোধিত ভোটার তালিকায় (SIR) তাঁর বয়স ৭০ বছর হয়ে গিয়েছে। যে নথিও রয়েছে এবিপি লাইভ বাংলার হাতে। অথচ সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত, ময়দানে যিনি অনু দত্ত নামেই বেশি পরিচিত, পদ আঁকড়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাফ বলে দিচ্ছেন, 'পাসপোর্টে আমার বয়স ৬৯ বছর। জানি না SIR-এ কী করে ৭০ হল। পদত্যাগের প্রশ্নই নেই।'
যা শুনে সিএবি-রই একাংশ বলছে, দুজনের জন্য দুই আলাদা নিয়ম হয় কী করে! প্রশ্ন উঠছে, দু'জায়গায় দুরকম বয়স থাকা আশিস যদি 'বিবেকের তাড়নায়' পদত্যাগ করতে পারেন, তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নীতীশরঞ্জন বহাল থাকছেন কীভাবে! লোঢা কমিটির সুপারিশ ও সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন অনু।
নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আশিস অবশ্য লুকোচুরি করছেন না। এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, 'আমি চাইলে হয়তো আরও মাস ছয়েক থাকতে পারতাম। অ্যাকাডেমিক নথির বয়স ধরলে। কিন্তু ১৩ জুন আমার প্রকৃত বয়স ৭০ সম্পূর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি বয়স ৭০ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পদে থাকা নিয়ে যেরকম বিতর্ক হয়েছে সিএবিতে, চাই না আমাকে নিয়ে সেরকম প্রশ্ন উঠুক। কয়েকদিন ধরেই এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলাম। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। অবশেষে বিবেকের দংশন থেকেই সৌরভের কাছে গিয়ে সরাসরি ওর হাতে পদত্যাগপত্র দিয়ে এসেছি। আমাকে যে অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য করা হয়েছিল, তার জন্য সৌরভকে ধন্যবাদ।'
নাম না করলেও, আশিস যে সত্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পদ আঁকড়ে থাকা সিএবি-র সদ্যপ্রাক্তন যুগ্মসচিব মদন ঘোষকে নিয়ে বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করলেন, ওয়াকিবহাল সকলেই তা বুঝতে পারছেন। বহু বিতর্কের পর যাঁকে সরাতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে সিএবি। ২০ জুলাই বিশেষ সাধারণ সভা করে নতুন যুগ্মসচিব নির্বাচন করা হবে। ১২ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে।
নিয়ম অনুযায়ী, আশিসের বয়স ৭০ পেরনোর ৬০ দিনের মধ্যে অ্যাপেক্স কমিটির শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। তবে নতুন করে নোটিস জারি করে ২০ জুলাই একসঙ্গেই দুটি পদে নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই হাতে। তাই অ্যাপেক্স কমিটির শূন্যস্থানটি ২০ জুলাইয়ের পর ফের বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে পূরণ করতে হবে সিএবিকে। অন্তত নিয়ম তাই বলছে।
আশিসের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে ময়দানের একটা অংশ। যাঁরা মনে করছেন, উদাহরণ তৈরি করলেন আশিস। তবে আর একটা অংশ থেকে বলা হচ্ছে, গত বছরের বার্ষিক সাধারণ সভায় বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে আশিসের আসাটাও বিতর্কমুক্ত ছিল না। বলা হচ্ছে, বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেই সময়কার সচিব অতনু দে-র আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর পরিবর্তে আশিস এসেছিলেন সিএবি-তে। পদত্যাগে সেই বিতর্কের রেশ কি কাটল?
আরও পড়ুন: 'মন্ত্রী বলেই বাংলার কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়েছি', পেস-গুরু ডিন্ডা শোনালেন পরিকল্পনার কথা
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Sports. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
সন্দীপ সরকার