We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Bengal Cricket: চিঠির ধাক্কায় থমকে গেল সিএবির যুগ্মসচিব নির্বাচন, বুধবারের বৈঠক ঘিরেও উঠছে প্রশ্ন
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থায় প্রথম নির্বাচন। সিএবির যুগ্মসচিব পদে নির্বাচনের জন্য দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। সোমবার, ২০ জুলাই শহরের এক বিলাসবহুল হোটেলে বিশেষ সাধারণ সভার আয়োজন করেছিল সিএবি। ১২ জুলাই, রবিবার ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।
আর সেদিনই কি না নাটক! আচমকা সিএবি সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হল, পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে যুগ্মসচিব নির্বাচন! সিএবির শাসক শিবির যুগ্মসচিব পদে কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন জমা করেনি। বিরোধী কোনও গোষ্ঠীরও মনোনয়ন জমা পড়েনি। কিন্তু কেন আচমকা পিছিয়ে দেওয়া হল নির্বাচন?
খোঁজ নিতেই জানা গেল চমকে ওঠার মতো তথ্য। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, কমবেশি ১৮টি জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান হিসাবে জেলাশাসকরা চিঠি পাঠিয়েছেন সিএবিতে। সঙ্গে সিএবি অনুমোদিত ময়দানের একাধিক ক্লাব থেকেও চিঠি জমা পড়েছে। সব চিঠিরই মূল বক্তব্য হল, বিশেষ সাধারণ সভায় বিভিন্ন অনুমোদিত ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জেলা সংস্থা থেকে যাঁরা প্রতিনিধি হিসাবে আসবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও যেন সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির সুপারিশ মানা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়।
অর্থাৎ, শুধু পদাধিকারী বা কমিটি সদস্য নয়, ভোটাধিকার থাকা মনোনীত প্রতিনিধিরাও যেন লোঢা আইন মেনে আসেন, সেটা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে চিঠিতে। আর তাতেই চাঞ্চল্য।
সিএবি নির্বাচনে এখন মোট ভোটার ১৪৯। তাঁদের মধ্যে ২৮ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। বাকি ১২১ জন ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা সংস্থার প্রতিনিধি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। আতসকাচের তলায় বাকি ১২১ প্রতিনিধি। অভিযোগ উঠছে, লোঢা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিএবি পদাধিকারী, কমিটি মেম্বার বা ক্লাব-জেলা প্রতিনিধি হিসাবে ৯ বছর পার করে ফেলার পরেও অনেকে বিশেষ সাধারণ সভায় আসার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন। এ-ও অভিযোগ যে, মানা হচ্ছে না ৭০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বসীমাও। এইরকম 'বাতিল' (আইনি পরিভাষায় ডিসকোয়ালিফায়েড) প্রার্থীরা কী করে বৈঠকে থাকার এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য মনোনয়ন জমা দেন, জোরালভাবে সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একের পর এক চিঠি পেয়ে তাই নির্বাচন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সিএবি।
সিএবি-র প্রত্যেক কাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এমন অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেল, বিভিন্ন অনুমোদিত ইউনিটের প্রতিনিধি হিসাবে এমন অনেকেই আসেন, লোঢা আইনে যাঁদের বাদ পড়ার কথা। এ নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিঠিগুলিতে।
যদিও ওয়াকিবহাল কারও কারও মনে হচ্ছে যে, লোঢা আইন নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সিএবি-র বর্তমান শাসক গোষ্ঠী। কয়েকজনের দাবি, লোঢা আইন শুধু পদাধিকারী কিংবা কমিটি মেম্বারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনুমোদিত সংস্থার প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যদিও সিএবি-র গঠনতন্ত্র ও লোঢা আইন নিয়ে সড়গড় বড় একটা অংশের দাবি, সব ক্ষেত্রে একই আইন প্রযোজ্য।
জানা গেল, গোটা পরিস্থিতি সদস্যদের বুঝিয়ে বলতে বুধবার সিএবি-তেই একটি জরুরি সাধারণ সভা (ইমার্জেন্ট জেনারেল মিটিং) ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট সৌরভ। সেখানে কেন নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হল, সদস্যদের তা বুঝিয়ে বলার কথা সৌরভের। সেই বৈঠকে কি সত্তোরোর্ধ্ব কিংবা ৯ বছর কাটিয়ে ফেলা প্রতিনিধিরা থাকতে পারবেন?
সিএবি-র একাংশ বলছে, পারবেন। নাম প্রকাশ করা যাবে না, সেই শর্তে একজন এমনও বললেন, 'প্রথমত সিএবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র কিছুটা আলাদা। বোর্ডে যেমন প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ভোট নেই বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আলাদা আলাদা ভোট নেই। সিএবির গঠনতন্ত্রে এরকম কিছু বলা নেই যে, লোঢা আইন প্রতিনিধি বা ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যতদূর জানি পদাধিকারী অথবা কমিটি মেম্বাররা শুধু এর আওতায় পড়েন।' যোগ করলেন, 'আমাদের সংবিধানে সেটা ঢোকাতে গেলে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সিএবি সংবিধান সংশোধনের জন্য যেতে হবে।'
যদিও পাল্টা প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে, যদি জরুরি সাধারণ সভায় লোঢা আইনে 'বাতিল' প্রতিনিধিরাই থাকেন, তাহলে তো সেই ঘুরিয়ে নাক দেখানোই হল। বিশেষ সাধারণ সভা ও যুগ্মসচিব নির্বাচন আটকে গেল যে যুক্তিতে, সেটা জরুরি সাধারণ সভায় মানা হচ্ছে না কেন? এতে নতুন কোনও আইনি জট তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।
শাসক শিবির থেকে যদিও ভাসিয়ে দেওয়া হল যে, যুগ্মসচিব পদে কোনও পক্ষই কোনও প্রার্থী দেয়নি। সেই কারণইে নির্বাচন হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বললেন, 'কোনও পক্ষই হয়তো তৈরি নয়। তাই নির্বাচন পিছিয়ে গেল।'
যদিও বিরুদ্ধ মতও রয়েছে জোরালভাবে। গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে সৌরভের আস্থাভাজন কয়েকজন ভোটাধিকারই হারিয়ে বসেছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে তাঁদের পরিবর্তে অন্যদের প্রতিনিধি হিসাবে সিএবি-তে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, যেভাবে খোদ জেলাশাসকেরা চিঠি পাঠিয়েছেন, তাতেই কি নতুন করে জল মাপা শুরু হল? সেই কারণেই নির্বাচনে নামা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা? প্রশ্ন ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, লোঢা আইন তো নতুন নয়, বহুদিন ধরেই কার্য়কর। কিন্তু সিএবি-র গত বার্ষিক সাধারণ সভাতেও সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনুমোদিত সংস্থার প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। সেই বার্ষিক সাধারণ সভাতেই সৌরভ প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রত্যাবর্তন ঘটান। প্রশ্ন উঠছে, গত বছরের সেই বার্ষিক সাধারণ সভাও কি আতসকাচের তলায় চলে আসবে?
সব মিলিয়ে ক্রিকেট প্রশাসনিক স্তরে বেনজির ধোঁয়াশা ঘিরে ধরেছে বাংলার বাইশ গজকে।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Sports. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
সন্দীপ সরকার