We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Bengal Cricket: লোঢা আইনে 'বাতিল'রা কি CAB-র জরুরি বৈঠকে থাকতে পারবেন? প্রশ্ন ময়দানে, বিজ্ঞপ্তি নিয়েও বিতর্ক
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: অভিযোগপত্রের ধাক্কায় নির্বাচনই বাতিল হয়ে গিয়েছে। অথচ কেন নির্বাচন পণ্ড হল, তার ব্য়াখ্যা দেওয়ার জন্য ডাকা বৈঠকে আমল দেওয়া হচ্ছে না সেই অভিযোগকেই!
এমনই প্রশ্ন ঘিরে বিতর্কের ঝড় বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি-র অন্দরে। বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে সিএবি-র জারি করা বিজ্ঞপ্তিও। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ধোঁয়াশা বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনে।
ঠিক কী হয়েছে?
বয়স সত্তর বছর পেরিয়ে যাওয়ায় বহু বিতর্কের পর লোঢা কমিটির নিয়ম মেনে যুগ্মসচিব মদন মোহন ঘোষকে সরিয়েছে সিএবি। ২০ জুলাই নতুন যুগ্মসচিব নির্বাচনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা (SGM) ডাকা হয়েছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১২ জুলাই। যুগ্মসচিব পদপ্রার্থীদের পাশাপাশি সমস্ত অনুমোদিত ক্লাব, জেলা সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদেরও মনোনয়ন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ওই দিনই।
কিন্তু তার আগেই একের পর এক পত্রবোমা পেতে থাকে সিএবি। কমবেশি ১৮টি জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান হিসাবে জেলাশাসকরা চিঠি পাঠান সিএবিতে। সঙ্গে সিএবি অনুমোদিত ময়দানের অন্তত দশটি ক্লাব থেকেও চিঠি জমা পড়ে। সব চিঠিরই নির্যাস হল, বিশেষ সাধারণ সভায় বিভিন্ন অনুমোদিত ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জেলা সংস্থা থেকে যাঁরা প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও যেন সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির সুপারিশ মানা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়। অর্থাৎ, লোঢা আইন মতো বয়স সত্তর পেরিয়ে যাওয়া কিংবা ক্রিকেট প্রশাসনে ৯ বছর কাটিয়ে ফেলা কাউকে যেন প্রতিনিধিত্বও করতে না দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: চিঠির ধাক্কায় থমকে গেল সিএবির যুগ্মসচিব নির্বাচন, বুধবারের বৈঠক ঘিরেও উঠছে প্রশ্ন
তাতেই থমকে যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া। যুগ্মসচিব পদে কোনও মনোনয়নই জমা না পড়ায় বাতিল হয় এসজিএম। এরপরই সিএবি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সদস্যদের জানায় যে, বুধবার, ১৫ জুলাই একটি জরুরি সাধারণ সভা (এমার্জেন্ট জেনারেল মিটিং) ডাকা হয়েছে। সেখানেই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ব্যাখ্যা করে দেবেন, কেন নির্বাচন করা গেল না।
বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সিএবি-র সেই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে। কারণ, সেখানে বলা হয়েছে, বিশেষ সাধারণ সভার জন্য যাঁরা মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, তাঁরা জরুরি সাধারণ সভায় থাকতে পারবেন। আর যাঁরা জমা দেননি, তাঁদের অথরাইজেশন লেটার নিয়ে আসতে হবে।
এখানেই উঠছে প্রশ্ন। সিএবি-তে এখন মোট ভোটার ১৪৮ জন (দিলীপ দোশি প্রয়াত হওয়ায় সংখ্যা একটি কমেছে)। তাঁদের মধ্যে ২৭ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। বাকি ১২১ জন ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা সংস্থার প্রতিনিধি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। আতসকাচের তলায় বাকি ১২১ প্রতিনিধি। অভিযোগ উঠছে, লোঢা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিএবি পদাধিকারী, কমিটি মেম্বার বা ক্লাব-জেলা প্রতিনিধি হিসাবে ৯ বছর পার করে ফেলার পরেও অনেকে বিশেষ সাধারণ সভায় আসার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এ-ও অভিযোগ যে, মানা হয়নি ৭০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বসীমাও।
সিএবি-তে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিশেষ সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের জন্য মোট ১০৩টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। ৪৫টি মনোনয়ন জমা পড়েনি। সিএবি-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০৩ জন মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রতিনিধি বুধবারের বৈঠকে থাকতে পারবেন। বাকি ৪৫ প্রতিনিধিকে চিঠি আনতে হবে। তাতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সিএবিরই একাংশ একের পর এক প্রশ্ন তুলছে।
এক, যে বিশেষ সাধারণ সভা ও নির্বাচন বাতিলই হয়ে গেল, সেই বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়া ব্যক্তিরা কী করে ওই একই মনোনয়নের ভিত্তিতে জরুরি সাধারণ সভায় থাকতে পারেন? গোটা পদ্ধতির বৈধতা নিয়েই যখন প্রশ্ন, তাকে উপেক্ষা করে কী করে বৈঠক হতে পারে?
দুই, যে ১০৩ প্রতিনিধি মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই লোঢা আইনে 'বাতিল' বলে অভিযোগ। এইরকম 'বাতিল' (আইনি পরিভাষায় ডিসকোয়ালিফায়েড) প্রার্থীরা কী করে বৈঠকে থাকার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, জোরালভাবে সেই প্রশ্ন তুলেই ঝাঁকে ঝাঁকে চিঠি জমা পড়েছিল। যার জেরে বাতিল হয় নির্বাচন। অথন সেই প্রতিনিধিরাই বুধবারের বৈঠকে থাকবেন কী করে? সেক্ষেত্রেও তো লোঢা আইন অমান্য করাই হল?
তিন, অনেকেই দেখে বিস্মিত যে, লোঢা আইনে সত্তর পেরিয়ে যাওয়ায় যে মদন ঘোষকে যুগ্মসচিব পদ থেকে সরানো হল, তিনিই কী করে হোয়াইট বর্ডার ক্লাব থেকে প্রতিনিধি হিসাবে আসার জন্য মনোনয়ন জমা দেন?
শাসক গোষ্ঠীর কয়েকজনের দাবি, লোঢা আইন শুধু পদাধিকারী কিংবা কমিটি মেম্বারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনুমোদিত সংস্থার প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নাম প্রকাশ করা যাবে না, সেই শর্তে শাসক গোষ্ঠীর একজন এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, 'প্রথমত সিএবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র কিছুটা আলাদা। বোর্ডে যেমন প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ভোট নেই বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আলাদা আলাদা ভোট নেই। সিএবির গঠনতন্ত্রে এরকম কিছু বলা নেই যে, লোঢা আইন প্রতিনিধি বা ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যতদূর জানি পদাধিকারী অথবা কমিটি মেম্বাররা শুধু এর আওতায় পড়েন।' যোগ করলেন, 'আমাদের সংবিধানে সেটা ঢোকাতে গেলে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সিএবি সংবিধান সংশোধনের জন্য যেতে হবে।'
যদিও সিএবি-র গঠনতন্ত্র ও লোঢা আইন নিয়ে সড়গড় বড় একটা অংশের দাবি, সব ক্ষেত্রে একই আইন প্রযোজ্য। সিএবির-ই রুল ৮ (৬)-এ বলা রয়েছে, যে সমস্ত ক্রিকেট কর্তারা পদাধিকারীর যোগ্যতাপূরণে ব্যর্থ, তাঁরা নিজ-নিজ অনুমোদিত সংস্থার প্রতিনিধিও হতে পারবেন না। কিন্তু দেখা গিয়েছে, সেই আইন মানা হচ্ছে না সিএবিতে। সংস্থায় এমন অনেকেই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাঁদের বয়স সত্তরের উপর। কিংবা ক্রিকেট প্রশাসনে ন’বছর কাটিয়ে ফেলেছেন।
সব মিলিয়ে বুধবারের বৈঠক ঘিরে তুমুল ধন্দ তৈরি হয়েছে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার অন্দরে।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Sports. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
সন্দীপ সরকার