Cervical Cancer Vaccine : রাজ্যে সারভাইকল ক্যান্সারের টিকাকরণ শুরু ! কেন হয় এই রোগ? ভ্যাক্সিনের ক'টি ডোজ? কারা নেবেন?

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
কলকাতা : সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ুমুখের ক্যান্সার বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি গুরুতর অসুখ। প্রতি বছর বহু মহিলা এই রোগে আক্রান্ত

কলকাতা : সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ুমুখের ক্যান্সার বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি গুরুতর অসুখ। প্রতি বছর বহু মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকের মৃত্যু  হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো HPV ভ্যাকসিন নিলে এই ক্যান্সার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কেন্দ্রীয় সরকার আগেই বিনামূল্যে HPV টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করেছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হল সেই প্রকল্প। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে মোট ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ HPV ভ্যাকসিন এসেছে, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কেন এই টিকাকরণ গুরুত্বপূর্ণ, কয়টি ডোজ, কীভাবে কাজ করে, বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অগ্নিমিতা গিরি। 

HPV কী? কেন এই ভ্যাকসিন এত গুরুত্বপূর্ণ?

HPV বা Human Papilloma Virus হল এক ধরনের ভাইরাস, যা দীর্ঘদিন শরীরে থাকলে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। মূলত এই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেই জরায়ুমুখে ক্যান্সার তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, HPV ভ্যাকসিন এই ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে সাহায্য করে। ফলে ভবিষ্যতে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যায়।

সরকারি ভ্যাকসিন কয়টি ডোজে দেওয়া হবে?

সরকারি কর্মসূচিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য এক ডোজ HPV ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এক ডোজও অত্যন্ত কার্যকর।                                  

বেসরকারি ক্ষেত্রে HPV ভ্যাকসিনের ডোজ

  • ৯ থেকে ১৪ বছর বয়স: ১ বা ২ ডোজ

  • ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়স: ৩ ডোজ

সেক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেওয়ার সময়সূচি সাধারণত হয়—

  • প্রথম ডোজ: ০ মাস

  • দ্বিতীয় ডোজ: ২ মাস পরে

  • তৃতীয় ডোজ: ৬ মাস পরে

সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার কী?

জরায়ুর নিচের অংশকে বলা হয় Cervix বা জরায়ুমুখ। সেখানে যদি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার তৈরি হয়, তখন তাকে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার বলা হয়। এই রোগ মূলত মহিলাদের মধ্যেই দেখা যায়।

সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের লক্ষণ কী কী?

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ রয়েছে—

  • সহবাসের পর রক্তক্ষরণ

  • দুই পিরিয়ডের মাঝখানে রক্তপাত

  • মেনোপজের পরও রক্তক্ষরণ

  • দীর্ঘদিন ধরে মাসিক চলা

  • যোনি থেকে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব

  • পেলভিক পেন বা তলপেটে ব্যথা

  • সহবাসের সময় যন্ত্রণা

এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে—

  • অতিরিক্ত ধূমপান

  • একাধিক যৌনসঙ্গী

  • কম বয়সে যৌন সম্পর্ক শুরু

  • যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়া

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা

  • HIV সংক্রমণ থাকলে

  • কিছু বিশেষ হরমোনজনিত ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়তে পারে

কীভাবে প্রতিরোধ সম্ভব?

চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চললে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

HPV ভ্যাকসিন নেওয়া

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ হল HPV টিকা।

PAP Smear Test করা

২১ বছর বয়সের পর নির্দিষ্ট সময় অন্তর PAP Smear Test করানো জরুরি। এতে জরায়ুমুখে precancerous পরিবর্তন আগেভাগে ধরা পড়ে।

সুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

  • কন্ডম ব্যবহার জরুরি

  • যৌনসঙ্গীর সংখ্যা সীমিত রাখা প্রয়োজন

  • যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা জরুরি

সুস্থ জীবনযাপন

  • ধূমপান ছাড়া

  • স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন

কোন বয়সে HPV ভ্যাকসিন সবচেয়ে কার্যকর?

ভারতে ২০০৬ সাল থেকে HPV ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে এই ভ্যাকসিন নিলে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগেই ভ্যাকসিন দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়।

HPV ভ্যাকসিনের ধরন

বর্তমানে HPV ভ্যাকসিন কয়েক ধরনের পাওয়া যায়—

  • HPV 4: ৯ বছর থেকে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেওয়া যায়

  • HPV 9: ৯ বছর থেকে ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত দেওয়া যায়

চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা এবং সময়মতো টিকাকরণই সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। 

 

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Lifestyle. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - Lifestyle

Read Previous

FSSAI News: খবরের কাগজের...

Read Next

Dehydration: গরমের দিনে বড়...