We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Chandrima Bhattacharya : 'আমি নাকি ভবন তুলে দিয়েছি !' মমতার কোন কথায় আঘাত পেলেন চন্দ্রিমা? বলে ফেললেন কোন ঘাত-প্রতিঘাতের কথা ?
ঝিলম করঞ্জাই, অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : কালীঘাট তৃণমূলে আরও ভাঙন। এবার রাজ্য় সভানেত্রী পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দায়িত্ব পাওয়ার মাস খানেকের মধ্যেই ইস্তফা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন মন্ত্রীর। কেন হঠাৎ এই পদত্যাগ ? ভোটে হারের পর যখন একের পর তৃণমূল সদস্য, বড় বড় নেতা, ঘনিষ্ঠরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে গিয়েছেন, তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সব পদ ছেড়ে দিলেন। কিন্তু কেন? দলনেত্রীর প্রতি সবটুকু সম্মান রেখেই, নিজের দুঃখের কথা বলে ফেললেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন কথায় দুঃখ পেয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য? বললেন, “নেত্রী ফোন করে বললেন, আমি নাকি ওদের হাতে ভবন তুলে দিয়েছি।” তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফার পর মুখ খুলে সেই কথাই জানালেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। স্পষ্ট করে দিলেন, নিজের আনুগত্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে হওয়ার পরই নিজেকে ব্যর্থ বলে মনে করেছেন তিনি। 'মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় আমাকে ফোন করে বললেন আমি নাকি ভবন তুলে দিয়েছি । আমি কাউকে কোনও কিছু তুলে দেওয়ার অধিকারী নই, এতে আমি বেদনাহত । আমার আনগত্য প্রশ্নের মুখে বলে মনে হয়েছে আমি ব্যর্থ । আমি প্রতিদিন যতক্ষণ তৃণমূল ভবনে থাকি, ততক্ষণই ছিলাম । বিশ্বাস, আনুগত্য প্রশ্নের মুখে পড়লে আর কিছু করার থাকে না'
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুধু রাজ্য সভানেত্রীর পদই নয়, দলের সমস্ত পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত? কারও বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে তাঁর? পদত্যাগের পর চন্দ্রিমার বক্তব্যে উঠে এল অভিমান এবং নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রসঙ্গ।
গতকাল সন্ধেয় কী ঘটে তৃণমূল ভবনে ? শুক্রবার সন্ধ্যায় তৃণমূল ভবনে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ই এম বাইপাসের কাছে অবস্থিত তৃণমূল ভবনে পৌঁছায়। সেখানে তখন ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ঋতব্রত-তৃণমূলের নেতারা সেখানে পৌঁছলে তিনি বেরিয়ে যান। এরপর সেখানে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেয় ঋতব্রত - তৃণমূল ।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দাবি, তিনি বেদনাহত। কারণ তাঁকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ফোন করে বলেন 'আমি নাকি ভবন তুলে দিয়েছি ... আমি কাউকে কোনও কিছু তুলে দেওয়ার অধিকারী নই, এতে আমি বেদনাহত'।
‘বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন ফেরার প্রশ্ন নেই’
চন্দ্রিমার কথায়, “বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন ফেরার প্রশ্ন নেই।” যদিও দলের কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ করেননি তিনি। বরং গোটা ঘটনার দায় নিজের উপরেই নিয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার কোনও অভিযোগ নেই, আমি নিজেকে অভিযুক্ত করছি।” আরও বলেন, “আমি নিজেকেই দায়ী মনে করছি, মনে করছি আমি ব্যর্থ।” তাঁর কথায়, নিজের রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে হয়েছে। আর সেই কারণেই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
‘আমি দলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি’
নিজের পদত্যাগের কথা স্পষ্ট করে চন্দ্রিমা বলেন, “আমি দলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।” গত ৩ জুন তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। শুধু রাজ্য সভানেত্রীর পদ নয়, তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। দলের হয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের নথিতে স্বাক্ষর করার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারীর পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন চন্দ্রিমা।
পদত্যাগের কথা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। সেই চিঠিতে মমতাকে ‘তৃণমূল চেয়ারপার্সন’ হিসেবে নয়, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চন্দ্রিমা।
তৃণমূলে আছেন? স্পষ্ট করলেন না চন্দ্রিমা
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কি পুরোপুরি শেষ? তিনি এখনও দলের সদস্য কি না? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বরং তিনি বলেন, “বিষয়টি বিচারাধীন, অনেক জটিলতা আছে।” দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “অনেক বড় বড় নেতারা আছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই দেখবেন।”
ছেলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খুললেন চন্দ্রিমা
নিজের ছেলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন চন্দ্রিমা। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যার যার সিদ্ধান্ত নিজে নেবে, আমার ছেলের বয়স ৪৭।” ভবিষ্যতে বিধানসভায় যাবেন কি না, সেই প্রশ্নেও চন্দ্রিমা বলেন, “আমি বিধানসভায় কিছু টাকাপয়সা পাব, তার জন্য যাওয়ার দরকার হবে।” তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “সময় নিজের গতিতে চলবে।”
বাজেট নিয়ে কী বললেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী?
বাজেট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন চন্দ্রিমা। তাঁর দাবি, “আমার সঙ্গে আলোচনা করে বাজেট হয়েছে এমন নয়।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা যখন জেনেছেন, তার কিছুক্ষণ আগে আমি জেনেছি।” নিজের মন্ত্রিত্বের সময় কাজের ধরন প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা বলেন, “আমার মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশ দিতেন, সেই ভাবেই আমি করেছি।”
দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়া, দলের অন্য দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানো এবং তার পর নিজের আনুগত্য প্রশ্নের মুখে পড়ার কথা বলা—চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর মন্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক অভিমানের সুর।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়