We currently don't have news in this language. Please choose another language.
E20 Insurance Claim: ইথানল মেশানো পেট্রোলে পুরনো গাড়ি চালাচ্ছেন ? ইঞ্জিনের ক্ষতি হলে বিমার টাকা পাবেন ?
Flex Fuel Car Insurance Claim : বিদেশের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে ফ্লেক্স (Flex Fuel) দিকে ঝুঁকছে ভারত। E20 পেট্রোলের পর সম্প্রতি E85 ইথালন মেশানো জ্বালানি নিয়ে এসেছে ভারত। এই বিশেষ জ্বালানি ব্য়বহারে একে একে গাড়ি লঞ্চ করছে কোম্পানিগুলি। প্রশ্ন উঠছে, পুরনো ইঞ্জিনে ইথানল মেশানো পেট্রোল ব্যবহার নিয়ে। অনেকেই বলছেন, E20 পেট্রোল পুরনো ইঞ্জিনের ক্ষতি করলে বিমার টাকা পাওয়া যাবে। এই নিয়ে কী রয়েছে নিয়ম।
কী সমস্যা তৈরি হচ্ছে
ভারতে দ্রুত E20 পেট্রোল (২০% ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি) ব্যবহার শুরু হয়েছে। সরকারের মতে, পরিবেশ রক্ষা ও খনিজ তেলের আমদানি কমাতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয় হলেও, প্রি-২০২৩ (এপ্রিল ২০২৩-এর আগের) গাড়ি ও বাইক মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইথানল মিশ্রিত এই জ্বালানি ব্যবহারে পুরনো ইঞ্জিনের ক্ষতি হলে বিমার টাকা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় ধোঁয়াশা। সম্প্রতি দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি বিমা সংস্থা ICICI Lombard-এর একটি ব্লগ পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক তীব্র রূপ নেয়। পরে অবশ্য সংস্থাটি তাদের বক্তব্য সংশোধন করেছে।
কোথা থেকে শুরু আসল বিতর্ক ?
আপনার একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এই বিতর্ক কিন্তু হঠাৎ করে শুরু হয়নি। ৯ জুন, ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি বিমা কোম্পানি ICICI Lombard একটি ব্লগে জানিয়েছিল, সব পুরনো গাড়ি E20 জ্বালানির উপযোগী নয়, সেগুলিতে এই তেল ব্যবহার করলে তা 'অবহেলা' (Negligence) বা 'অনুপযুক্ত ব্যবহার' হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর ফলে ইঞ্জিন বা ফুয়েল লাইনের ক্ষতি হলে বিমা সংস্থা ক্লেম (Claim) বাতিল করতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং গ্রাহকদের উদ্বেগের মুখে পড়ে ১৫ জুন বিমা সংস্থাটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে একটি নতুন বিবৃতি জারি করে।
ICICI Lombard-এর নতুন স্পষ্টীকরণ
কোম্পানির তরফে বলা হয়েছে, "আমরা পরিষ্কার জানাচ্ছি যে পুরনো গাড়িতে E20 জ্বালানি ব্যবহারকে আমরা 'অবহেলা' হিসেবে দেখছি না। গাড়িতে কী ধরনের জ্বালানি (পেট্রোল, ডিজেল বা সিএনজি) ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে বিমার দাবি খারিজ করা হয় না। প্রচলিত জ্বালানির মতো E20-র ক্ষেত্রেও পলিসি সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে।"
পলিসি বৈধ থাকলেও ক্লেম বাতিলের ঝুঁকি কেন থাকছে ?
বিমা সংস্থা অভয় দিলেও আইনি মারপ্যাঁচে এখনও একটি বড় চিন্তার জায়গা রয়ে গেছে। নতুন বিবৃতিতে পলিসি বৈধ থাকার কথা বলা হলেও, ইঞ্জিনের ভেতরের ক্ষয়ক্ষতির টাকা আপনি নাও পেতে পারেন। কেন? কারণগুলো নীচে আলোচনা করা হল
১ কনসিকুয়েন্সিয়াল ড্যামেজেস : সাধারণ মোটর ইন্স্যুরেন্স বা থার্ড-পার্টি পলিসিগুলো মূলত দুর্ঘটনা, চুরি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কভার করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনে যে ক্ষয় হয়, তাকে বিমার ভাষায় 'কনসিকুয়েন্সিয়াল ড্যামেজেস' বা পরোক্ষ ক্ষতি বলা হয়, যা সাধারণ পলিসিতে কভার হয় না।
২ ধীরে ধীরে কেমিক্যাল ক্ষয় হয়: ইথানল প্রাকৃতিকভাবেই ক্ষয়কারী। পুরনো গাড়ি বা বাইক, যেগুলো E20-র উপযোগী করে তৈরি হয়নি, সেগুলির রাবার সিল, ফুয়েল পাইপ এবং ইঞ্জিনের ভেতরের ধাতব অংশ ইথানলের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। এই ক্ষতি একবারে হয় না, দীর্ঘদিন ধরে নিঃশব্দে তৈরি হয়। ক্লেম করার সময় বিমা সংস্থা এটিকে 'স্বাভাবিক ক্ষয়' হিসেবে দেখিয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করতে পারে।
ইঞ্জিন প্রটেকশন অ্যাড-অন কি সাহায্য করবে ?
অনেকেই ভাবেন এই স্পেশাল কভারটি থাকলে বুঝি সব রক্ষা। কিন্তু বাস্তবে, বেশিরভাগ ইঞ্জিন প্রটেকশন কভার মূলত আকস্মিক জল ঢুকে যাওয়া (Hydrostatic Lock) বা লুব্রিকেন্ট লিকেজের ক্ষতি সামাল দেয়। জ্বালানির রাসায়নিক বিক্রিয়াজনিত ক্ষয় এর আওতাভুক্ত নাও হতে পারে।
গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাও হাত তুলে নিতে পারে
শুধু বিমা সংস্থাই নয়, গাড়ি বা বাইক প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও এর দায় এড়াতে পারে। আপনার গাড়ির ম্যানুয়ালে যদি স্পষ্ট লেখা থাকে যে গাড়িটি সর্বোচ্চ E10 (১০% ইথানল) সহ্য করতে পারে, তবে তাতে ২০% ইথানল ব্যবহারের ফলে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে কোম্পানি ওয়ারেন্টি বাতিল করে দিতে পারে।
পুরনো গাড়ি চালকদের জন্য করণীয় কী ?
এপ্রিল ২০২৩-এর পর ভারতে যে সমস্ত গাড়ি বা বাইক তৈরি হয়েছে (BS6 Phase 2 নিয়ম মেনে), সেগুলিতে নিশ্চিন্তে E20 ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু আপনার গাড়ি যদি তার চেয়ে পুরনো হয়, তবে সুরক্ষার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন:
| পদক্ষেপ | সুবিধা ও অসুবিধা |
| ম্যানুয়াল চেক করুন | আপনার গাড়ির ফুয়েল ক্যাপ বা ইউজার ম্যানুয়াল চেক করে দেখুন সেটি কতটা ইথানল সহ্য করতে পারে। |
| প্রিমিয়াম ফুয়েল ব্যবহার | সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় কিছু প্রিমিয়াম গ্রেডের জ্বালানিতে ইথানলের মাত্রা কিছুটা কম বা নিয়ন্ত্রিত থাকে, যা পুরনো ইঞ্জিনের জন্য কিছুটা নিরাপদ। তবে এর খরচ সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে বেশি। |
| নিয়মিত সার্ভিসিং | মেকানিককে দিয়ে গাড়ির ফুয়েল লাইন, ফিল্টার এবং রাবার গ্যাসকেট নিয়মিত পরীক্ষা করান, যাতে বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই তা ধরা পড়ে। |
আরও পড়ুন : এবার ১০০% ইথানলে ছুটবে গাড়ি, কবে থেকে ভারতে, মাইলেজ কত দেবে ?
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Banking. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
ABP Ananda