GI Tag : হুগলির মুকুটে নয়া পালক, জলভরা সন্দেশ, মনোহরা মিষ্টি ও বলাগড়ের নৌকা পেল জিআই স্বীকৃতি

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি : হুগলি জেলার ঐতিহ্যে যুক্ত জলভরা সন্দেশ, জনাইয়ের মনোহরা মিষ্টি এবং বলাগড়ের ঐতিহ্যবাহী নৌকা পেল জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই স্বীকৃতিতে খুশি মিষ্টি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নৌ শিল্পীরা।

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি : হুগলি জেলার ঐতিহ্যে যুক্ত হল নয়া পালক। চন্দননগরের বিখ্যাত জলভরা সন্দেশ, জনাইয়ের মনোহরা মিষ্টি এবং বলাগড়ের ঐতিহ্যবাহী নৌকা পেল জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই স্বীকৃতিতে খুশি মিষ্টি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নৌ শিল্পীরা। মিষ্টিপ্রিয় বাঙালির কাছে চন্দননগরের জলভরা সন্দেশের আলাদা একটা পরিচিতি রয়েছে। এবার জিআই স্বীকৃতির ফলে এই মিষ্টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিতি পাবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। তবে বিদেশের বাজারে পৌঁছতে গেলে মিষ্টির সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকারি উদ্যোগ ও গবেষণার প্রয়োজন বলেও দাবি উঠেছে।

চন্দননগরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী শৈবাল মোদক জানান, “চন্দননগরের জলভরার সর্বভারতীয় স্তরে সুনাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসার জন্য এই জিআই স্বীকৃতি প্রয়োজন ছিল। আমরা খুবই আনন্দিত। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জিআই-এর জন্য আবেদন করেছিলাম। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এই স্বীকৃতি পেলাম। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এই মিষ্টি স্বীকৃতি পেয়েছে। আগামী দিনে সূর্য মোদকের জলভরা চন্দননগরের জলভরা হিসেবেই পরিচিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে জলভরার প্রসার ঘটাতে হলে মিষ্টির মেয়াদ বাড়াতে হবে। এর জন্য সরকারকে গবেষণার উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই বিদেশের বাজারে জলভরা নিজের জায়গা তৈরি করতে পারবে।”

অন্যদিকে বলাগড়ের নৌ শিল্পের জিআই স্বীকৃতি নিয়েও উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে। আঞ্চলিক গবেষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, বলাগড়ের নৌ শিল্পের এই স্বীকৃতির পিছনে প্রায় চার বছরের লড়াই রয়েছে। তিনি বলেন, “সারা ভারতবর্ষে বিভিন্ন জায়গায় নৌকা তৈরি হয়, সুন্দরবন, কাকদ্বীপ, জলপাইগুড়িতেও হয়। কিন্তু বলাগড়ের নৌ শিল্পের আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ইতিহাস ও তথ্য তুলে ধরতে অধ্যাপক ড. পিনাকি ঘোষ এবং ড. শান্তনু পান্ডা সাহায্য করেছেন। গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার পর পাঁচটি শুনানির মাধ্যমে বলাগড়ের ডিঙি নৌকা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে।”

নৌ শিল্পীদের মতে, এই স্বীকৃতি ভারতবর্ষের মানচিত্রে বলাগড়ের নৌ শিল্পকে জায়গা দিয়েছে। তবে শুধু স্বীকৃতি নয়, প্রয়োজন সরকারি সহায়তা। এক নৌ শিল্পী বলেন, “জিআই পাওয়ায় আমরা খুশি। কিন্তু আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হব তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের নৌকা মূলত মৎস্যজীবীদের জন্য তৈরি হয়, তাঁরাও আর্থিকভাবে দুর্বল। ফলে আমরাও নৌকার উপযুক্ত দাম পাই না। সরকারি সাহায্য না পেলে আগামী দিনে এই শিল্পের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।” জিআই স্বীকৃতির পর এখন হুগলির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও নৌ শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - Districts

Read Previous

IND vs ENG: শ্রেয়সের...

Read Next

Aparupa Poddar: 'রামনবমীর...