Loan Manage Tips: ৩০,০০০ টাকা বেতনেও শোধ করতে পারবেন বাড়ি-গাড়ির ঋণ, জেনে নিন পুরো অঙ্ক

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
Loan Repayment Tips:  বর্তমান যুগে নিজের একটা বাড়ি আর একটা গাড়ি থাকবে—এমন স্বপ্ন কম-বেশি সবারই থাকে। কিন্তু আপনার মাসিক বেতন যদি মাত্র ৩০,০০০ টাকা হয়, তবে এই স্বপ্ন পূরণ করা অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। কম আয়ে একসঙ্গে দুটো লোন (Home Loan & Car Loan) নেওয়া বা তার EMI শোধ করা বোধহয় সম্ভব নয়।

Loan Repayment Tips:  বর্তমান যুগে নিজের একটা বাড়ি আর একটা গাড়ি থাকবে—এমন স্বপ্ন কম-বেশি সবারই থাকে। কিন্তু আপনার মাসিক বেতন যদি মাত্র ৩০,০০০ টাকা হয়, তবে এই স্বপ্ন পূরণ করা অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। অনেকেই ভাবেন, এত কম আয়ে একসঙ্গে দুটো লোন (Home Loan & Car Loan) নেওয়া বা তার EMI শোধ করা বোধহয় সম্ভব নয়। কিন্তু সত্যিটা তা নয়! সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা এবং ব্যাঙ্কের নিয়ম বুঝলে ৩০,০০০ টাকা বেতনেও এই স্বপ্ন ছোঁয়া সম্ভব।

আসুন জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের আসল অঙ্ক এবং কিছু জরুরি ফাইন্যান্স টিপস।

ব্যাঙ্ক কখন লোন দেয়? (বুঝুন FOIR-এর নিয়ম)
যেকোনো ব্যাঙ্ক লোন দেওয়ার আগে একটি বিশেষ নিয়ম মেনে চলে, যাকে বলা হয় FOIR (Fixed Income to Obligation Ratio)। সহজ কথায়, ব্যাঙ্ক নিশ্চিত করে যেন আপনার সমস্ত লোনের মোট EMI আপনার মাসিক বেতনের ৪০% থেকে ৫০%-এর বেশি না হয়।

আপনার বেতন যদি ₹৩০,০০০ হয়, তবে ৪০% হিসেবে সর্বোচ্চ EMI হতে পারে ₹১২,০০০।

আর ৫০% হিসেবে সর্বোচ্চ EMI হতে পারে ₹১৫,০০০।

অর্থাৎ, ব্যাঙ্ক ধরে নেবে যে আপনি প্রতি মাসে ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার বেশি EMI দিতে পারবেন না।

বাড়ি ও গাড়ি লোনের সম্পূর্ণ অংকের হিসেব
ধরে নেওয়া যাক, আপনি বাড়ি এবং গাড়ি দুটোর জন্যই লোন নিচ্ছেন:

বাড়ি লোনের EMI: ₹৯,০০০ প্রতি মাস

গাড়ি লোনের EMI: ₹৪,০০০ প্রতি মাস

মোট EMI: ₹১৩,০০ Stack (৯,০০০ + ৪,০০০)

এই ₹১৩,০০০ টাকা আপনার ৩০,০০০ টাকা বেতনের প্রায় ৪৩%। যেহেতু এটি ব্যাঙ্কের নির্ধারিত ৫০%-এর সীমার মধ্যেই রয়েছে, তাই ব্যাঙ্ক আপনাকে লোন দেওয়ার কথা বিবেচনা করবে। তবে লোন চূড়ান্ত করার আগে ব্যাঙ্ক আপনার ক্রেডিট স্কোর (Credit Score), পুরনো কোনো ধারদেনা আছে কিনা এবং আপনার আনুমানিক খরচ কেমন, তা ভালো করে খতিয়ে দেখবে।

লোন নেওয়ার পর হাতে কত টাকা থাকবে?
বেতন ৩০,০০০ টাকা থেকে ১৩,০০০ টাকা EMI কেটে নেওয়ার পর আপনার হাতে থাকবে মাত্র ₹১৭,০০০।

বাস্তব পরিস্থিতি: এই ১৭,০০০ টাকা দিয়েই আপনাকে সারা মাসের সংসার খরচ চালাতে হবে। এর মধ্যে থাকবে বাড়ির রেশন, বিদ্যুৎ ও জলের বিল, চিকিৎসার খরচ এবং গাড়ির জন্য পেট্রোল বা সিএনজি-র খরচ। ফলে, আলাদা করে কোনো বিনিয়োগ (Investment) করার মতো টাকা হয়তো আপনার হাতে আর বাঁচবে না।

লোন নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি
যদি আপনি এই বেতনে লোন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে এই ৪টি গোল্ডেন রুল অবশ্যই মনে রাখুন:
১. ৪০% সীমা বজায় রাখুন: চেষ্টা করুন আপনার মোট EMI যেন কোনোভাবেই বেতনের ৪০%-এর বেশি না যায়।
২. ইমার্জেন্সি ফান্ড (Emergency Fund): লোন নেওয়ার আগেই অন্তত ৬ মাসের খরচের টাকা জরুরি তহবিল হিসেবে আলাদা সরিয়ে রাখুন, যাতে চাকরি বা আয়ের কোনো সমস্যা হলে EMI আটকে না যায়।
৩. ভালো ক্রেডিট স্কোর: আপনার ক্রেডিট স্কোর যত ভালো হবে, ব্যাঙ্ক তত কম সুদে লোন দেবে। ফলে EMI-এর বোঝা কিছুটা কমবে।
৪. বেশি ডাউন পেমেন্ট: বাড়ি বা গাড়ি কেনার সময় শুরুতেই যতটা সম্ভব বেশি ডাউন পেমেন্ট (Down Payment) করুন। ডাউন পেমেন্ট যত বেশি হবে, লোনের অঙ্ক এবং প্রতি মাসের EMI ততটাই কম হবে।

মাত্র ৩০,০০০ টাকা বেতনে দুটি লোন নেওয়া কি ঠিক হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে: আপনার যদি একটি স্থায়ী চাকরি থাকে, মাথায় অন্য কোনো পুরনো ঋণের বোঝা না থাকে এবং আপনার মাসিক পারিবারিক খরচ যদি কম হয়, তবে সঠিক বাজেট প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে এই দুটি লোন চালানো সম্ভব। কিন্তু, আপনার যদি ইতিমধ্যেই অন্য কোনো লোন থাকে বা ফ্যামিলি লায়াবিলিটি বেশি হয়, তবে একই সাথে বাড়ি ও গাড়ির লোন নেওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে কিছুটা সময় নিয়ে পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Banking. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - Banking

Read Previous

অষ্টম বেতন...

Read Next

SIP Return: মাসে ৫ হাজার...