We currently don't have news in this language. Please choose another language.
lung Cancer : ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়বে আগে থেকেই ! করতে হবে একটি রক্ত পরীক্ষা, কী জানালেন বিজ্ঞানীরা ?
কলকাতা : বাকি রোগের তুলনায় ক্যান্সার একটি ভয়ঙ্কর অসুখ! সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে মৃত্যু অনিবার্য। তবে, বর্তমান দিনে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার দৌলতে মানুষ অনায়াসে সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিন্তু সবাই নয়, কারণ এর চিকিৎসা করাতে প্রচুর অর্থ ব্যায় হয়। যা সবার পক্ষে খরচ করা সম্ভব নয়। এর মাঝে বিজ্ঞানীরা ফুসফুসের ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করতে নয়া গবেষণা শুরু করেছেন। এটি ফলপ্রসূ হলে শুধুমাত্র একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগে থেকেই জানা যাবে ফুসফুসের ক্যান্সার সম্পর্কে।
ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে মারাত্মক রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার কারণে প্রতি বছর প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও ধূমপানই এর প্রধান ঝুঁকির কারণ, তবে বর্তমান সময়ে বায়ু দূষণ এবং পেশাগত ঝুঁকিও এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে। বিজ্ঞানীরা একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন যা ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি এমন একটি রক্ত পরীক্ষা যা ক্যান্সার হওয়ার বহু বছর আগেই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের রোগটি শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।
ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের (Francis Crick Institute) চার্লস সোয়ানটনের (Charles Swanton) নেতৃত্বে থাকা গবেষকদের একটি দল সম্প্রতি ‘সেল’ জার্নালে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের কথা উল্লেখ করেছেন। বিজ্ঞানীরা রক্তরসে অবস্থিত একটি “১৪-প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য” শনাক্ত করেছেন। যা বহু বছর আগে থেকেই ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারে। এর ফলে আগে থেকে হস্তক্ষেপ নেওয়া যাবে এবং জীবন বাঁচাতে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার পথ খুলে যাবে।
গবেষকরা প্লাজমা বিশ্লেষণকে এক ধরনের “তরল বায়োপসি” হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ এটি শরীরের অভ্যন্তরে ঘটে চলা জৈবিক পরিবর্তনের একটি প্রাথমিক দিককে তুলে ধরেন। সুস্থ ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের প্রোটিন প্রোফাইল তুলনা করে বিজ্ঞানীরা রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রায় ৪৮,০০০ মানুষের প্লাজমা নমুনা ব্যবহার করে গবেষকরা বয়স, লিঙ্গ, ধূমপানের অবস্থা এবং ফুসফুসের ক্যান্সার নির্ণয়ের মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রোটিনের ধরণ বিশ্লেষণ করার জন্য একটি মেশিন-লার্নিং মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এই মডেলটি ভবিষ্যতে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সম্পর্কিত ১৪টি প্রোটিন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষকরা একটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন।
ক্যানটোস ট্রায়ালের তথ্য পরীক্ষা করে তাঁরা দেখেছেন যে, হার্ট অ্যাটাকের পর প্রদাহ কমানোর জন্য ক্যানাকিনুম্যাব (Canakinumab) নামক একটি ওষুধ নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১৪-প্রোটিন প্রদর্শনকারী রোগীদের ক্যানাকিনুম্যাব দিয়ে চিকিৎসা করার পর ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫০% হ্রাস পেয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞানীরা এও জানিয়েছেন, এই গবেষণার আরও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে। যাতে মানুষ ক্যান্সার থেকে স্বস্তি পায়। এবং ওষুধ খাবার প্রসঙ্গে, অবস্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ার কথা বলেছেন। কারণ, ক্যানাকিনুম্যাব ভয়ঙ্কর ক্ষতি করতে পারে। এর পার্সপ্রতিক্রিয়াও মারাত্মক।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Lifestyle. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
অরিন্দম প্রধান