We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Madan Mitra News : কালীঘাট তৃণমূল কেন ছাড়লেন মদন মিত্র ? কারণ সেই অভিষেকই ? স্পষ্ট করে দিলেন সবটাই
কলকাতা : এবার 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এ আরও বড় ধাক্কা। 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এ যোগ দিলেন মদন মিত্র। ছাড়লেন 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর সমস্ত পদ। অর্থাৎ ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য , জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর এবার মদন-হারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের ঠিক আগেই 'ঋতব্রত তৃণমূল'-শিবিরে গেলেন মদন মিত্র। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গেলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। বললেন, 'তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু এঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম, বললেন মদন মিত্র। এই বদলকে মদন এক কথা বললেন, 'এ ঝড়ের ইঙ্গিত। বদলের ইঙ্গিত। ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস ...' । মদন মিত্র বলেন 'আমি তৃণমূলে ছিলাম। তৃণমূলেই রইলাম। শুধু আমি এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই...'।
'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ যোগ দেওয়ার পরই নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, "একজন মানুষের জন্য একটা জাতকে বিসর্জন দিতে পারি না।" একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, "দল চালায় দলের সেনাপতি। কিন্তু সেই সেনাপতি দলকে ঠিকমতো চালাতে পারছে না।" মদন মিত্র আরও দাবি করেন, বর্তমানে দলের অন্দরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, "এখন দল ভয়ে কাঁপছে।" যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবে তাঁর মন্তব্য যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করেই, তা মোটামুটি স্পষ্ট। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মদন মিত্র বলেন, 'অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও শোনে না। নিজে যেটা মনে করে সেটাই করে। ' কবিতার ছন্দে তিনি বলেন, 'জীবন-মরণ সাঁকোর সামনে, বয়স এখন দাঁড়িয়ে। জীবন-মরণ সাঁকোর সামনে, বয়স এখন দাঁড়িয়ে। এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না।' অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে জানিয়েও মদন মিত্র কৃতজ্ঞতা জানালেন , 'আমি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের, তাঁকে সম্মান জানিয়ে, তাঁকে ধন্য়বাদ জানিয়ে, দীর্ঘদিন তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন, আমরাও চেষ্টা করেছি কম-বেশি করার, আজ এই মুহূর্ত থেকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ন্য়াশনাল কমিটি, চিফ হুইপ, ওয়ার্কিং কমিটি, পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি থেকে শুরু করে, সমস্তরকম পদ থেকে আমি ইস্তফা দিলাম। '
মদন মিত্রের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির ঠিক আগে তাঁর এই পদক্ষেপ 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, যোগদানের আগেই নতুন শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন মদন মিত্র। মঙ্গলবার তিনি 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে যান। যদিও সেই সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না সন্দীপন সাহা। পরে স্বর্ণকমল সাহার ফোন থেকে সন্দীপন সাহার সঙ্গে কথা বলেন মদন মিত্র। সন্দীপন সাহার দাবি, ফোন করে মদন মিত্র নিজেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ যোগ দেন কামারহাটির বিধায়ক।
ফলে, একের পর এক প্রবীণ ও পরিচিত নেতার 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের আগে মদন মিত্রের এই পদক্ষেপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়