We currently don't have news in this language. Please choose another language.
NEET Examination: দিনসাতেক আগেই ভেন্টিলেটরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন পাঞ্জা, অ্যাম্বুলেন্স করে এসে NEET দিলেন সৃষ্টি
সত্যজিৎ বৈদ্য, কলকাতা: মনের অদম্য জোর আর ডাক্তার হওয়ার তীব্র ইচ্ছের সামনে হার মানল মৃত্যুভয়ও। এক সপ্তাহ আগেও যিনি হাসপাতালের ভেন্টিলেটরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, সেই সৃষ্টি দুবেই অ্যাম্বুলেন্স করে এসে দিলেন নিট (NEET Examination) পরীক্ষা। লিলুয়ার এই অদম্য লড়াকু তরুণীর কথা যেন হার মানায় সিনেমার চিত্রনাট্যকেও।
মুখে যন্ত্রণার ছাপ! শরীরের প্রতিটি অঙ্গ বয়ে বেড়াচ্ছে দুর্ঘটনার ক্ষত। তবুও থেমে নেই স্বপ্ন। ডাক্তার হওয়ার অদম্য ইচ্ছেই হাওড়ার লিলুয়ার সৃষ্টি দুবেকে নিয়ে এল নিট (NEET) পরীক্ষার হলে।
গত ৩ মে, প্রশ্ন ফাঁসের জেরে বাতিল হয়ে যায় ডাক্তারিতে স্নাতকস্তরে ভর্তির পরীক্ষা। প্রায় দেড়মাসের মাথায় রবিবার ফের মেডিক্যালের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। ফের পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখনই গত ১৪ জুন ভয়ঙ্কর এক দুর্ঘটনা কার্যত ভেঙেচুরে দেয় নিট পরীক্ষার্থী, সৃষ্টির শরীর। দুর্ঘটনায় বাদ চলে যায় লিলুয়ার তরুণীর ফুসফুসের একাংশ। ভেঙে যায় পাঁজরের একাধিক হাড়। দু'দিন ভেন্টিলেটরে চলে যমে-মানুষে টানাটানি।
সেই সৃষ্টি দুবেই রবিবার সরাসরি হাসপাতালের বেড থেকে এসে বসলেন পরীক্ষার সিটে। ডাক্তার হওয়ার পরীক্ষায় বসে সৃষ্টি প্রমাণ করে দিলেন, তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে পড়লেও, হার মানেনি স্বপ্ন। আর সৃষ্টির এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে চেষ্টার কোনও কমতি রাখেননি তাঁর চিকিৎসকও।
আরও পড়ুন:- 'বিচার' চেয়ে নতুন করে তদন্তের আবেদন, পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের
যখন পরীক্ষা হলে সৃষ্টি নিজের পরীক্ষা দিচ্ছেন, তখন যাঁর অধীনে তিনি চিকিৎসারত, সেই চিকিৎসক রাকেশচন্দ্র দেবনাথ হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন। ILS দমদমের ITU ইনচার্জ রাকেশ বলেন, ‘আমরা যে করেই হোক ওকে পরীক্ষা হলে পাঠাতে বদ্ধপরিকর ছিলাম। ওরও অনেকটা চেষ্টা ছিল। ওর মনের জোর হান্ড্রেডে হান্ড্রেড ছিল। মাল্টিপল ফ্র্যাকচার হয়েছে রিবসে ম্যাক্সিমাম ১২টার ওপর ওর স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। ওর ফুসফুসের ওপরের ভাগ ফেলে দিতে হয়েছে। ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে ছিল। দুই দিন ওকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হল। ও এখানে এসে পরীক্ষা দিচ্ছে এটা একটা মিরাকল।’
সৃষ্টির মা সোনালিকা দুবে জানান, ‘গত রবিবার ভাবছিলাম মেয়েকে ব্যস ঠাকুর বাঁচিয়ে দাও। এই রবিবার এরকম এক্সাম দেবে! ওকে (মেয়ে) বললাম, দেখ তোর সঙ্গে এত ডাক্তার সাপোর্টিভ। একদিন যদি তুই ডাক্তার হোস, তুই ও এটাই করবি, সোসাইটির জন্য ভাল করবি।’
তাঁর বাবা শ্রীরাম শিবজি দুবে তো প্রথমে ভাবতেই পারেননি যে এই অবস্থায় মেয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। তিনি জানান, ‘ডাক্তার বললেন চিন্তা করবেন না, ও পরীক্ষা দেবে। NTA ডিপার্টমেন্টেরও এর পিছনে অনেক অবদান। আমরা ভাবিনি যে (পরীক্ষা) দিতে পারবে। ও বলল, না বাবা আমি যাব। আমি ভয়ে ভয়ে এসেছি। আমাদের জন্য স্পেশালি গ্রিন করিডর করা হল। ওখান দিয়ে ILS দমদম হাসপাতাল থেকে এসেছি।’
তবে সবকিছুকে হার মানিয়ে অবশেষে পরীক্ষা দিলেন সৃষ্টি। এ যেন শুধুই একটি পরীক্ষায় বসার গল্প নয়। এ এক হার না মানার গল্প, সাহসের গল্প, বিশ্বাসের গল্প। ফের প্রমাণিত হল, সৃষ্টি থেমে থাকে না, সৃষ্টিরা থেমে থাকেন না।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
ABP Ananda