We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Nipah Virus: ফের নিপা ভাইরাসের হানা, কোন জেলায়? চরম উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাতেও!
কলকাতা: বাংলায় নিপা ভাইরাসের হানায় কয়েক মাস আগেই একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সের নিপা সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা এখনও অনেকের মনে দাগ কেটে রয়েছে। তাঁর এক সহকর্মীও আক্রান্ত হয়েছিলেন, যদিও পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নিপা ভাইরাস ঘিরে উদ্বেগ ছড়াল দেশে। এবার কেরলে।
কেরলের কোঝিকোড়ে ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক পরীক্ষায় নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি, তবুও কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নজরদারি শুরু হয়েছে।
কেন উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়?
নিপা ভাইরাসের নাম শুনলেই বাংলার মানুষের মনে ফিরে আসে বারাসতের সেই ঘটনা। একজন নার্সের মৃত্যু এবং আরও এক স্বাস্থ্যকর্মীর সংক্রমণ নিয়ে তখন ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। স্বাস্থ্য দফতরের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও নিপা যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা দেখেছে এ রাজ্য।
তাই কেরলে নতুন করে সম্ভাব্য সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই সতর্কতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তঃরাজ্য যাতায়াতের যুগে দেশের যে কোনও প্রান্তে সংক্রামক রোগের খবর গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
কেরলে শুরু কড়া নজরদারি
কেরল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা সকলের খোঁজ শুরু হয়েছে। তাঁদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। কোঝিকোড় জেলা অতীতেও একাধিকবার নিপা সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। ফলে প্রশাসন শুরু থেকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
কী এই নিপা ভাইরাস?
নিপা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ফলখেকো বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা দূষিত খাবারের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
এই ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের প্রধান কারণ হল—
মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি
এখনও কোনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন নেই
নির্দিষ্ট ওষুধও নেই
দ্রুত শনাক্তকরণ এবং রোগীকে আলাদা রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
কেরলের পরিসংখ্যান উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কেরলে মোট ৩১ জন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, নিপা সংক্রমণকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
আতঙ্ক নয়, সতর্কতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অকারণে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাংলায় বারাসতের ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। তাই কেরলে নতুন করে নিপা সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সচেতনতা বাড়লেই সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
ABP Ananda