We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Rain Update : বাজছে বিপদ ঘণ্টা! অর্ধেকের বেশি জেলায় বৃষ্টির হাহাকার, ২০ বছরে ঘটেনি, ঘটবে এমন কিছু?
নয়াদিল্লি: জুনের শুরুতে দারুণ গতিতে এগোলেও আচমকাই যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে কমে গিয়েছে মেঘের বৃষ্টি ঘটনানোর ক্ষমতা। থমকে গিয়েছে বর্ষার অগ্রগতি। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি বাড়তে শুরু করেছে উদ্বেগজনক হারে। আবহবিদদের একাংশের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনোর প্রভাবও এর পিছনে থাকতে পারে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে দেশে স্বাভাবিকভাবে ৫৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হয়েছে মাত্র ১৯.২ মিলিমিটার। অর্থাৎ এই সময়ে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৬৪ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে। বিশেষ করে মুম্বইয়ে এখনও পর্যন্ত নুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা পৌঁছয়নি। সাধারণত ৯ থেকে ১১ জুনের মধ্যে মুম্বইয়ে বর্ষা ঢুকে পড়ে। কিন্তু এ বছর জুনের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হলেও তার দেখা নেই। আবহবিদদের অনুমান, আরও চার থেকে পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে মহারাষ্ট্রের বাকি অংশ এবং আরব সাগরের মধ্যাঞ্চলে বর্ষার অগ্রগতির জন্য।
আবহাওয়া সংস্থাগুলির মতে, মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের উপর বর্ষার প্রভাব বর্তমানে অনেকটাই দুর্বল। ২০ জুনের পর কিছুটা উন্নতি দেখা যেতে পারে ঠিকই, তবে রাজ্য জুড়ে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির জন্য জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
দেশের সামগ্রিক ছবিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ৭২৩টি জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, মাত্র ১০৩টি জেলায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে ২৩৬টি জেলায় বৃষ্টি কম হয়েছে এবং ২০২টি জেলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ, সেখানে বৃষ্টির ঘাটতি অত্যন্ত বেশি।
২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুনের পথে মুম্বই
বর্ষার এই ধীরগতির সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মুম্বই। শহরটি গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাসের সাক্ষী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সান্তাক্রুজ আবহাওয়া কেন্দ্র জুন মাসে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৩.১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে কোলাবায় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫ মিলিমিটার। অথচ মুম্বইয়ে জুন মাসে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫২৬.৩ মিলিমিটার। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০২৬ সালের জুন মাস ২০১৪ সালের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। ওই বছর গোটা জুন মাসে মুম্বইয়ে মাত্র ৮৭.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল, যা শহরের ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন।
জলসঙ্কটের আশঙ্কাও বাড়ছে
বর্ষার দুর্বল অগ্রগতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জলাধারগুলিতেও। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জলাধারে বর্তমানে মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ২৪.৫ শতাংশ জল মজুত রয়েছে। গুজরাতের একাধিক জলাধারেও জলস্তর দ্রুত কমছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে সর্দার সরোবর জলাধার। সেখানে জল সঞ্চয়ের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে আগামী দিনে পানীয় জল ও সেচের জলের জোগান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আবহবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বর্ষা নতুন করে গতি না পেলে কৃষি, জলসম্পদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়