Taratala Building Collapse: তারাতলায় ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে আর্তনাদ, লোহার বিম কাটতে হিমশিম অবস্থা, খোলা হল কন্ট্রোল রুম, হতাহত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
কলকাতা: তিনতলা উঁচু চায়ের গোডাউন তৈরি হচ্ছিল। তিন তলা এবং দোতলার ছাদ ঢালাই হয়ে গিয়েছিল। আর সেই কাজ চলাকালীনই ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ঘটল।

কলকাতা: তিনতলা উঁচু চায়ের গোডাউন তৈরি হচ্ছিল। তিন তলা এবং দোতলার ছাদ ঢালাই হয়ে গিয়েছিল। একতলার ঢালাই চলছিল। আর সেই কাজ চলাকালীনই ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ঘটল। ভরদুপুরে তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বৃহদাকার নির্মীয়মান গোডাউন। দুর্ঘটনার সময় ভিতরে ৫০-৬০ জন শ্রমিক ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন তাঁরা। বেশ কয়েকজনকে বের করে আনা গেলেও, অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা। গ্য়াসকাটার আনা হয়েছে লোহার বিম কাটতে। এসে পৌঁছেছে অত্যাধুনিক ক্রেনও। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। প্রকাশ করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর। (Taratala Godown Collapse)

বুধবার দুপুর ১২টা বেজে ৪৫ মিনিট নাগাদ, ব্রেসব্রিজের ট্রান্সডিপোর কাছে নির্মীয়মান ওই গোডাউনটি ভেঙে পড়ে। জানা গিয়েছে, লোহার বিম বসিয়ে উপর থেকে ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। লোহার রড ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই হয়েছিল। তিন তলা, দোতলার পর একতলার ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। এদিন সবসমেত ভেঙে পড়ে গোডাউনটি। এই মুহূর্তে বিরাট জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। সঠিক পদ্ধতিতে ঢালাইয়ের কাজ হচ্ছিল কি না, তা বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। (Taratala Building Collapse)

আরও পড়ুন: তারাতলায় ভেঙে পড়ল গোডাউন, ভিতর থেকে চিৎকার-কান্নার শব্দ, আটকে রয়েছেন শ্রমিকরা

তবে প্রাথমিক ভাবে যা বোঝা যাচ্ছে, তা হল, পিলারের পরিবর্তে লোহার মোটা বিম বসানো হয়। মাঝখানে ফের লোহার পাত বসানো হয়েছিল। টাইবিমও ছিল সেখানে। টিনের উপর সিমেন্ট, স্টোনচিপ, রড দিয়ে ঢালাই হয়েছিল। সামগ্রীর গুণমান কেমন ছিল, গোডাউন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কিনা, তা তদন্তসাপেক্ষ। এখনও পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজনের মৃত্য়ুর খবর মিলেছে। হতাহতের সংখ্য়া আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। কারণ লোহার শেড পুরোপুরি বসে গিয়েছে মাটিতে। অনেকে আটকে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর এদিন বিপর্যয়ে কন্ট্রোল রুম খুলেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর। কন্ট্রোল রুমের যে নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে, তা হল- 1070, 8697981070, 033 22143526, 033 22535185. পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক রাকেশ সিংহ, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনাস্থলে রয়েছেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডেও।

ধ্বংসস্তূপ অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ভিতরে যাঁরা আটকে রয়েছেন, যাঁরা সাড়া দিতে পারছেন, তাঁদের বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ভিতরে জল পাঠানোর চেষ্টা চলছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকার্যে হাত লাগাতে পারে বলে খবর। তাদের খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে সেনার অ্যাম্বুল্যান্সও। উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে সেনাও। 

বিজেপি বিধায়ক রাকেশ সিংহ জানিয়েছেন, শম্ভু বেরা নামের একজন গোডাউনটি তৈরি করছিলেন। তাঁর বক্তব্য, "বেরা অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বার বার বলেছি, ওরা বেআইনি নির্মাণ করছে। ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেআইনি নির্মাণ করিয়েছেন টাকা খেয়ে। শুধু দু'টো গোডাউন আইন মেনে তৈরি হয়েছে। বাকি তারাতলা রোডের সব গোডাউন বেআইনি।"

যত দ্রুত সম্ভব আটকে পড়া শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। গ্যাসকাটার দিয়ে লোহার বিম কাটা হচ্ছে কোথাও। কোথাও আবার ভার্টিকাল ড্রিলিংয়ের কাজ চলছে। রাস্তা তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যাতে ভিতরে ঢোকা যায়। লোহার অংশ সরানো হচ্ছে ধরাধরি করে। এই মুহূর্তে অত্য়ন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকার্য চলছে। এখনও ভিতর থেকে চিৎকার, আর্তনাদ ভেসে আসছে। গোটা এলাকা খালি করে দিয়েছে পুলিশ। ভিতর থেকে ঘন ঘন বেরিয়ে আসছে অ্যাম্বুল্যান্স।

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - Districts

Read Previous

Taratala Factory Collapse : 'জল...

Read Next

'নাকের ডগা দিয়ে...