We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Taratala Building collapse: কার গাফিলতির জেরে তারাতলায় এতবড় দুর্ঘটনা? উত্তর হাতড়াচ্ছেন মৃতের পরিজনরা
সমীরণ পাল, রানা দাস ও প্রদ্যোৎ সরকার, কলকাতা: কার গাফিলতির জেরে এতবড় দুর্ঘটনা? যে দুর্ঘটনার জেরে অন্ধকার, অনিশ্চয়তার মুখোমুখি অসংখ্য পরিবার। উপার্জনকারী প্রিয়জনকে হারিয়ে কী করবেন তারা বুঝে উঠতে পারছে না অসহায় পরিবারগুলি।
তারাতলার বিপর্যয়, উদ্ধার, শ্রমিকের খোঁজে চিৎকার, দেহ উদ্ধার, কান্নার রোল। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ভেঙে পড়া কাঠামো, অসংখ্য পরিবারের কাঠামো নাড়িয়ে দিয়েছে। অকালে শেষ করে দিয়েছে অনেক স্বপ্ন। বছর চল্লিশের পাপ্পু কুমার রজক। থাকতেন উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের শ্যামনগরে। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে মৃত্যু হয়েছে এই শ্রমিকের। দুর্ঘটনায় মৃত পাপ্পু কুমার রজকের মেয়ে পুষ্পা রজক বলছেন, 'আমার সরকারের কাছে একটাই অনুরোধ, আমার বাপির ওপরেই সংসারটা চলত। একটাই অনুরোধ, যাতে সরকার আমাদের একটু দেখে। আমার মাকে যেন আমি কাজ করে খাওয়াতে পারি।'
সদ্য ১৮ পেরিয়েছিলেন কাটোয়ার গাজীপুরের বাসিন্দা রোহিত চৌধুরী। বাবা অসুস্থ, মা সবজি বিক্রেতা। তাই পরিবারের মুখে দু'মুঠো ভাত তুলে দিতে, মাত্র দেড় মাস আগে কাজের খোঁজে রোহিত গিয়েছিলেন কলকাতায়। আর ফেরা হল না গাজীপুরের চৌধুরীপাড়ার বাড়িতে। মৃত রোহিত চৌধুরীর মা বলছেন, 'আমি বললাম, এখন যেতে হবে না। বলছে, মা যাই। আমার তো বয়স হয়ে গেল, ২০ বছর হতে চলল। তোমার কষ্ট হচ্ছে। আমি বাইরে যাই কাজ শিখব। তাহলে তো কাজ করব। আমি এই সব কাজ শিখে বাইরে যাব।'
তারাতলার দুর্ঘটনা অকালে কেড়ে নিয়েছে কৃষ্ণনগরের চর শম্ভুনগর চৌধুরীপাড়া এলাকার চন্দ্রমা চৌধুরী ও রাহুল চৌধুরীকে। এলাকার দুই শ্রমিককে হারিয়ে শোকস্তব্ধ নদিয়ার এই এলাকা। তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃত রাহুল চৌধুরীর বাবা বলছেন, 'আগে একবার গিয়েছিল, চলে এসেছিল। আবার একমাস হয়ে গিয়েছে, বলেছিল ৩-৪ দিন পরে চলে আসব। আমি বললাম, চলে আয় বাপ। আসল না। একেবারে চলে গেল, একদমই চলে গেল।' রুটি-রুজির খোঁজে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই গ্রাম থেকে কলকাতায় কাজে গিয়েছিল ৬-৭ জন নির্মাণ শ্রমিক। বুধবার দুপুরে তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামোর তলায় চাপা পড়েন তাঁদের ৪ জন। মৃত চন্দ্রমা চৌধুরীর আত্মীয় বলছেন, 'উনি সংসারেক একাই উপার্জনকারী ছিলেন। ওঁর তিনটে মেয়ে এক ছেলে আছে। সমস্যা হচ্ছে পরিবারটা পথে বসে গেল! আমরা চাইছি, সরকার যদি একটু সাহায্য করে পরিবারকে।'
তারাতলার দুর্ঘটনায় এই অসহায় পরিবারগুলো কী করবেন তারা বুঝে উঠতে পারছে না।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Kolkata. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
গৌতম রায়