We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Teesta Overflow : উত্তরবঙ্গে ভয়াল রূপ তিস্তার, সিকিমের প্রবল বৃষ্টির জের, কালিম্পংয়ে বাড়ি-ঘর-বাজার ভাসাল উত্তাল নদী
উমেশ তামাং, দার্জিলিং : উত্তরবঙ্গে জারি দুর্যোগের লাল সতর্কতা । এরই মধ্যে প্রকৃতির ভয়ঙ্কর তাণ্ডবের মুখে সিকিম। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে রবিবার ভোররাত প্রায় ৩টা নাগাদ তিস্তা নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে কালিম্পং জেলার তিস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় জল ঢুকে পড়ে প্রবল তোড়ে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রিয় পর্যটন স্থল সিকিম। এই সময় পর্যটকের ঢল নামে উত্তরবঙ্গে। আর তারই প্রাণকেন্দ্র দার্জিলিং, কালিম্পং। এবার সেখানে দুর্যোগের ভয়াল সঙ্কেত।
সিকিমের ভারী বৃষ্টির জেরে ভেসেছে তিস্তা। আর খরস্রোতা নদী ঢুকে পড়েছে পাড় ভাসিয়ে। ভাসছে কালিম্পংয়ের তিস্তা বাজার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে পুলিশ প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে শুরু হয়েছে মাইকিং। নদী সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাত তিনটের সময় প্রবল গতিতে তিস্তার জল পাড় ভাসিয়ে ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। আর তার জেরেই আতঙ্ক বেড়েছে। গত কয়েক বছরে সিকিমের দুর্যোগের বড় প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গে। তছনছ হয়েছে তিস্তার পাড়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জলস্তর বৃদ্ধির কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিস্তা নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে এবং রাস্তায় জমে থাকা জলও নামা শুরু হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় ফের স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতি বর্ষাতেই সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর জলস্তর প্রায়শই বৃদ্ধি পায়। ফলে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলিতে সতর্কতা জারি রাখা হয়।
উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া সতর্কতা
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় শনিবার ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সর্বাধিক ২২ সেন্টিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কোচবিহার শহরে। কোচবিহারের ঘুঘুমারিতে ১৬ সেন্টিমিটার, পুন্ডিবাড়িতে ১৫ সেন্টিমিটার এবং মেখলিগঞ্জে ১৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ার জেলার ডিমা টি এস্টেটে ১৮ সেন্টিমিটার, বক্সাডুয়ারে ১৫ সেন্টিমিটার, আলিপুরদুয়ার শহরে ১৪ সেন্টিমিটার এবং বারোভিসায় ১৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলাতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির ছবি দেখা গিয়েছে। জলপাইগুড়ি শহরে ১৪ সেন্টিমিটার, কৈলাশপুর টি এস্টেটে ১২ সেন্টিমিটার, ডোমোহানিতে ১১ সেন্টিমিটার এবং গয়েরকাটা টি এস্টেটে ১০ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে ৯ সেন্টিমিটার এবং বাগডোগরা এলাকায় ৭ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গের উপর সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা এবং লাগাতার আর্দ্রতার জোগানের ফলে আগামী কয়েকদিনও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা-সহ বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। নিচু এলাকা এবং নদী সংলগ্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়