We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Antarctica Volcano Blasts Gold: হাঁ মুখ থেকে কোটি কোটি টাকার সোনা উগরে দেয় আন্টার্কটিকার এই আগ্নেয়গিরি…
নয়াদিল্লি: আন্টার্কটিকার বুক চিরে বেরিয়ে আসছে কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা। একদিন বা দু’দিন নয়, বছর বছর আকাশে-বাতাসে খাঁটি সোনা উগরে দিচ্ছে আগ্নেয়গিরি। কুড়িয়ে জড়ো করতে পারলে প্রতি বছর প্রায় ১৯ কোটি টাকার সোনা মিলতে পারে সেখান থেকে। গল্প নয়, একেবারে সত্য ঘটনা। পৃথিবীর বুকে এমন আগ্নেয়গিরি আর নয়। (Mount Erebus Spews Gold Crystals)
আন্টার্কটিকার রস আইল্যান্ডে অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস আগ্নেয়গিরি বছরভর সোনা উগরে দেয় উদর থেকে। ১৯৯১ সালের এখটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি দিন প্রায় ৮০ গ্রাম সোনা বাতাসে ছড়িয়ে দেয় মাউন্ট এরেবাস। খালিচোখে দেখা য়ায় না, এমন স্ফটিকের আকারে সোনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সোনার যা দাম, তাতে বছরে প্রায় ১৯ কোটি টাকার সোনা উগরে দেয় মাউন্ট এরেবাস। (Antarctica Volcano Blasts Gold)
পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাইন্ট এরেবাস। দক্ষিণ মেরু থেকে রস সাগরের কাছে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটির দূরত্ব প্রায় ১৩৫০ কিলোমিটার। গলিত লাভার হ্রদ রয়েছে আগ্নেয়গিরিটির বুকে। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত গ্যাস নির্গত হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই গ্যাসেই বিশুদ্ধ সোনার অতি ক্ষুদ্র সোনার কণা মিশে থাকে যা, ১০০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছিটকে যায়। শেষ পর্যন্ত মিশে যায় আন্টার্কটিকার বরফে।
আরও পড়ুন: বিমান নিয়ে সোজা উঁচু বিল্ডিংয়ে ধাক্কা, ইচ্ছাকৃত ভাবেই ওই ঘটনা ঘটান পাইলট? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে ওই সোনার কণা পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গিয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ওই সোনা সাধারণ নয় মোটেই। বরং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা, যার আকার স্ফটিকের মতো। আয়তন ৬০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত।
হাওয়াইয়ের কিলাউয়া, ইতালির মাউন্ট এতনা, আলাস্কার অগাস্টিন এবং মেক্সিকোর এল চিচোন-সহ একাধিক আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত গ্যাসে সোনার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুন: তরুণীর মস্তিষ্কে পরজীবীর বাসা, একটি বা দু’টি নয়, ৩৮টি, ভারতে বেড়াতে এসেই কি সংক্রমণ?
আগ্নেয়গিরির গ্যাস থেকে সোনা পাওয়াটা পুরোপুরি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। হাওয়াইয়ের কিলাউয়া, ইতালির মাউন্ট এতনা, আলাস্কার অগাস্টিন আগ্নেয়গিরি এবং মেক্সিকোর এল চিচোন-সহ বিভিন্ন আগ্নেয়গিরিতেও সামান্য পরিমাণে সোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ক্লোরিন বা সালফার সমৃদ্ধ যৌগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্যাসের মাধ্যমে ঊর্ধ্বমুখে উঠে আসে সোনার কণা। তবে গ্যাস ঠান্ডা হলে সোনা আলাদা হয়ে যায় এবং স্ফটিক তৈরি করে। তবে অন্য আগ্নেয়গিরির থেকে মাউন্ট এরেবাস সম্পূর্ণ আলাদা। এর দু’টি সম্ভাব্য কার্যকারণ চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা-
১) বাতাসের সংস্পর্শে এসে ঠান্ডা হওয়ার সময় ক্লোরিন সমৃদ্ধ গ্যাস থেকে আলাদা হয়ে সরাসরি কেলাসে পরিণত হয় সোনার কণা। কিন্তু গ্য়াসে সোনার উপস্থিতি যেহেতু অতি সামান্য, তাই সরাসরি তা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।
২) বিজ্ঞানীদের অন্য একটি অংশ আবার মনে করেন, আগ্নেয়গিরির লাভার হ্রদের উপরিভাগে প্রথমে কেলাসগুলি গঠিত হয়, তার পর গ্যাসের সঙ্গে ছিটকে বেরিয়ে আসে।
গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মাউন্ট এরেবাস নিয়ে গবেষণা চলছে। কিন্তু কী ভাবে সোনার স্ফটিক বেরিয়ে আসে সেখান থেকে, এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায়নি।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - World. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
পম্পা অধিকারী সিংহ