We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Crime News : খাবারে ১৫-২০টা ঘুমের ওষুধ! স্বামীকে 'খুন করে বাথরুমে পুঁতে দিলেন স্ত্রী', তারপর ভয়ঙ্কর ‘নাটক’
নয়াদিল্লি: ‘বাইরে গেছে। ফিরে আসবে শিগগিরই।’ - কেউ স্বামীর খোঁজ করলেই এই উত্তরই দিতেন স্ত্রী। প্রতিবেশী হোন বা আত্মীয়—কারও প্রশ্নেই বিচলিত হতেন না তিনি। দিনের পর দিন কেটে যায় । এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, এক মাস... তবু বাড়ি ফেরেননি সুরেন্দ্র শর্মা। শেষ পর্যন্ত ৪৫ দিন পর সামনে এল এমন এক অভিযোগ, যা শিউরে ওঠার মতো। পুলিশি তদন্তে দাবি, সুরেন্দ্র কোথাও যাননি। তাঁর দেহ পড়ে ছিল নিজের বাড়িতেই। যে বাড়িতে দিব্যি স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলেন স্ত্রী, সেই বাড়ির বাথরুমের নীচেই চাপা পড়ে ছিল নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ! অবশেষে পুলিশের জালে সেই স্ত্রী ! তদন্তকারীদের প্রশ্ন উত্তরে উঠে এসেছে একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য। স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের অভিযোগ এবার তাজমহলের শহর আগ্রায়।
খাবারেই মৃত্যুফাঁদ?
সেদিনও স্বামীকে খাবার দিয়েছিলেন রুবি। বাইরে থেকে দেখে অস্বাভাবিক কিছু বোঝার উপায় ছিল না। কিন্তু পুলিশের দাবি, সেই খাবারেই ছিল মৃত্যু ফাঁদ। তদন্তে উঠে এসেছে, স্বামীর খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন রুবি। একটি-দু’টি নয়। পুলিশের দাবি, সংখ্যাটা ছিল অন্তত ১৫ থেকে ২০। কিছুই বুঝতে পারেননি সুরেন্দ্র। খাবার খাওয়ার পর ধীরে ধীরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তিনি। তার পরেই ঘটে যায় ভয়ঙ্কর ঘটনা।পুলিশের দাবি, স্বামী গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার পর তাঁকে খুন করেন স্ত্রী।
খুনের পর দেহ লোপাট
হত্যার পর বাড়ির বাইরে নয়, দেহ লুকোনোর জায়গা হিসেবে নিজের বাড়িকেই বেছে নেন স্ত্রী, অভিযোগ তেমনটাই। পুলিশের তদন্তে দাবি, সুরেন্দ্রর দেহ বাথরুমে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তার পর দিনের পর দিন সেই বাড়িতেই সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে, এমন ছবি বজায় রাখার চেষ্টা চলেছিল বলে অভিযোগ। এদিকে দিন গড়াচ্ছিল। সুরেন্দ্র বাড়ি ফিরছেন না দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রতিবেশীরা জানতে চান, তিনি কোথায়? আত্মীয়রাও খোঁজ নিতে শুরু করেন। কিন্তু রুবির উত্তর ছিল ঠোঁটের ডগায়। বলে দিতেন স্বামী বাইরে গিয়েছেন, ফিরবেন শিগগিরিই।
নিখোঁজ রহস্যে ভয়ঙ্কর মোড়
প্রথমে এটি ছিল নিখোঁজের ঘটনা। প্রায় ৪৫ দিন ধরে সুরেন্দ্র শর্মার কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বদলে গিয়েছে গোটা মামলার গতিপথ। একটি সাধারণ নিখোঁজের ঘটনার তদন্তের শেষে পুলিশের হাতে উঠে আসে ভয়ঙ্কর খুনের প্রমাণ।
৮ দিন পর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি
সুরেন্দ্র ১৮ মে থেকে নিখোঁজ হন। কিন্তু থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় ২৬ মে। সেদিন রুবি এবং তাঁর দেওর অনিল পুলিশের কাছে গিয়ে জানান, সুরেন্দ্রর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরই নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর সেই তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করার অভিনয়ও চালিয়ে যান রুবি । স্বামীকে খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। প্রতিবেশীদের সামনে কাঁদতেন। বোঝাতেন, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তিনি ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁর গল্পে অসঙ্গতি খুঁজে পেতে শুরু করেন সুরেন্দ্রর পরিবারের সদস্যরা।
স্ত্রীকে সন্দেহ করতে শুরু করেন দেওর
পুলিশে নিখোঁজের অভিযোগ জানাতে রুবির সঙ্গেই গিয়েছিলেন সুরেন্দ্রর ভাই অনিল। কিন্তু তদন্ত এগোতেই তাঁর সন্দেহের তির ঘুরে যায় বৌদির দিকে। সুরেন্দ্র কীভাবে নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে রুবির বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সন্দেহের কথা পুলিশকে জানানো হয়। এরপরই রুবিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, বেশিদিন নিজের গল্প ধরে রাখতে পারেননি তিনি। জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন রুবি।
কেন স্বামীকে খুন? কী দাবি অভিযুক্ত স্ত্রীর?
জিজ্ঞাসাবাদে রুবি জানিয়েছেন, ভরতপুরে মত্ত অবস্থায় আত্মীয়দের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন সুরেন্দ্র। সেই ঘটনার জেরে আইনি পদক্ষেপ হতে পারে এবং আদালতে ঘুরতে হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে। পুলিশের কাছে এই কারণের কথাই জানিয়েছেন অভিযুক্ত স্ত্রী। যদিও হত্যার নেপথ্যে এটাই কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়