We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Kalyan Banerjee on Abhishek: অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কার্যত ডেডলাইন বেঁধে দিলেন কল্যাণ
কলকাতা: অভিষেকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভব্য আচরণ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগেও যিনি অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন। CID-র অভিযানের খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন কালীঘাটে। সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই এবার অভিষেকের সব মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন।
ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, "আমার পক্ষে আর কাজ করা অসম্ভব। তার কারণ হচ্ছে এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহঙ্কারী মনোভাব। মমতাদিকে ঠিক করতে হবে যে, তিনি অভিষেককে রাখবেন নাকি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখবে।" তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ একজন দুঁদে আইনজীবী। দুখে-সুখে, বিরোধী অবস্থায় কিংবা শাসকের যুগে, আন্দোলনে কিংবা আড্ডায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের প্রতীকে তিনি, হুগলির শ্রীরামপুর থেকে ৪ বার সাংসদ হয়েছেন। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন!এখনও ফাটাচ্ছেন! কার্যত সবাই যখন বিদ্রোহী, তখন যে গুটিকয়েক ব্য়াক্তি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পাশে রয়েছেন, তার মধ্য়ে তিনি একজন!
কিন্তু সই জালিয়াতিকাণ্ডের মামলায়, সেই কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ই অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ওপর এত ক্ষুব্ধ হলেন যে, কার্যত মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেই ডেডলাইন বেঁধে দিলেন। "তাঁর অভব্য আচরণ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। সব কিছুতে সে বুঝিয়ে দেয়, সে রাজা। এমনকী, এই খারাপ দিনেও। এই খারাপ দিনেও আমি যখন দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে দাঁড়াচ্ছি। এখন দিদিকে ঠিক করতে হবে যে কী করবেন।"
গত ৩০ মে, সোনারপুরে প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানের পাশাপাশি সেদিন ডিম, জুতো ছোড়া হয়। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদে থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে আচমকা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোন দিয়ে পিছন থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় আঘাত করে। এরপরই পড়ে যান তৃণমূল সাংসদ। আর যিনি কিনা সেদিন রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁকেই রাতারাতি আইনজীবীর পদ থেকে সরিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন ক্ষুব্ধ কল্যাণ বললেন, "হারের জন্য় তো ওই তো সবচেয়ে বেশি দায়ী। লোকে কী বলছে? আমার মতো সৎ রাজনীতিবিদ ক'জন আছে? কিন্তু আমাকেও তো চোর চোর শুনতে হয়েছে ওর জন্য়। ২০২২-এই তো আমি বলেছিলাম, হবে না এর দ্বারা। দল থাকবে না।"
সই জালিয়াতি কাণ্ডে দু'দিন আগেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের পার্টি অফিসে তল্লাশি চালায় CID। সেদিনও দিল্লি থেকে ফিরে সবার আগে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সেই প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন কল্যাণ, "মঙ্গলবার আমি দিল্লি থেকে তাড়াহুড়ো করে এলাম। প্রেস কনফারেন্স করে তাড়াহুড়ো করে এলাম। এসে দেখলাম সার্চ হচ্ছে। আমি দিদির বাড়িতে গেলাম।"
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হবে- এই মর্মে দলের বিধায়কদের সই করা একটি প্রস্তাব বিধানসভায় জমা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রস্তাবে মোট ১৩ জন বিধায়কের সই নকল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আর সেই মামলা নিয়েই যত বিপত্তি!
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
সুপ্রিয় ঘোষ