We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Land Scam Allegation : শালবনি ও মেদিনীপুরের প্রায় ৩০০ একর সরকারি জমি জালিয়াতি করে বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় কারা ?
সৌমেন চক্রবর্তী, ঝিলম করঞ্জাই ও ঊজ্জ্বল মুখোপাধ্য়ায় : শালবনি ও মেদিনীপুর ব্লকের প্রায় ৩০০ একর সরকারি জমি জালিয়াতি করে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে।
দিগন্ত বিস্তীর্ণ জমি, বড় বড় গাছ। অভিযোগ, এই সরকারি জমির চরিত্র বদলে, প্লট করে, লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। জমির চারপাশে উঠে গেছে পাঁচিলও। পশ্চিম মেদিনীপুরে শালবনিতে এই জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায়, ৬ জুন গ্রেফতার করা হয় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, যাঁকে জেরা করেই উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম। বিভিন্ন তথ্য় থেকে জানা যায়, সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়ের মধ্য়ে কোটি টাকার ওপর আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
রাজ্য় বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "সর্বত্র একই পদ্ধতিতে টাকা তোলা হত। টাকা পৌঁছে যেত...ওই শান্তি নামে যে বাড়িটা রয়েছে সেখানে। SUV গাড়ির তিনদিক বন্ধ করে দেওয়া হত যাতে কি না গাড়ির মধ্যে কিছু দেখা না যায়। যেটা সম্পূর্ণরূপে ভেহিক্যালস অ্যাক্টের পক্ষে বেআইনি সিস্টেম। অ্যাম্বলেন্সে করে অস্ত্র-টাকা বিভিন্ন জায়গায় চালান হত।"
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি এক ব্য়ক্তি শালবনি থানায় অভিযোগ জানান। অভিযোগপত্রে তিনি লেখেন, জমি বিক্রির নাম করে তাঁর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। অভিযোগ, তিনি বারবার বলা সত্ত্বেও কোনও এগ্রিমেন্ট বা চুক্তিপত্র করা হয়নি। জমির কোনও কাগজপত্রও হাতে পাননি তিনি। টাকা ফেরত চাইলে, সেটাও দেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, এরপর তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, জমিটি সরকারি। সেটির চরিত্র বদলে তার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।
শালবনির বাসিন্দা খোকন রায় বলেন, "এগুলো সরকারি জমি। তৃণমূল জমানায় যতসব ডুপ্লিকেট দলিল বানিয়ে, জাল দলিল বানিয়ে প্লট প্লট ভাগ করে বিক্রি করে। এই বিষয়ে সুজয় হাজরা কেন, সুজয় হাজরার মতো বড়বড় নেতা আছে যাদের এখানে জমি আছে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে, এই সরকারি জমিতে বন দফতরের সহায়তায় তাঁরা চাষাবাদ করতেন। লাগানো হত ইউক্য়ালিপটাস গাছ। অভিযোগ, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই সেইসব জমি দখল হতে শুরু করে।
শালবনির সীতারামপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণপদ রানা বলেন, "এটা সরকারি জায়গা বলেই আমরা ভেবেছিলাম। ফরেস্টের বিট অফিসার চারাও দিয়েছিল... পয়সা দিয়েছে। জোর করে তো দখল হয়ে গেল।"
শালবনির বাসিন্দা জিতেন রায় বলেন, "তৃণমূলের আমলে পুরোটাই পাঁচিল হয়ে যাচ্ছে। এগুলো সব সরকারি জায়গা। তৃণমূল পার্টির নেতারা বেশি দখল নিয়েছে। এই যে আমাদের এই পাঁচিলটা, আড়াইশো তিনশো লোক ভাড়া করে এনে পুলিশ নিয়ে এসে জোর করে দখল করতে চাইছিল। আমরা জানতে পারি জায়গাটা সুজয় হাজরার নামে আছে। ছেড়ে দিতে হবে।"
অভিযোগ, শালবনি ও মেদিনীপুর ব্লকের প্রায় ৩০০ একর সরকারি জমি জালিয়াতি করে বিক্রি করা হচ্ছিল। প্রথমে সরকারি জমিকে রায়ত জমি করা, তারপর সেই জমি বিক্রি... । জমি জালিয়াতিকাণ্ডে সুজয় হাজরাকে গত রবিবার ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব বলেন, "সরকারি যে জায়গাগুলো ছিল, জায়গাগুলোকে বিভিন্ন লোকের নামে ওঁর নিজস্ব ক্ষমতার অপব্য়বহার করে, রায়ত হিসেবে বদল করা। এবং বদল করার পর সেগুলো প্লট করে বিক্রি করা, প্রোমোটিং করা, এটাই অভিযোগ।" এই জমি জালিয়াতিকাণ্ডের তদন্তেই অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজ করছে পুলিশ।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Kolkata. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
ABP Ananda