We currently don't have news in this language. Please choose another language.
PPF Magic Plan : মাসে ১২,৫০০ টাকা জমালেই ম্যাজিক, পিপিএফে পাবেন ৬.৭৫ কোটি টাকা, কীভাবে সম্ভব জানেন ?
Public Provident Fund : আপনিও যদি চক্রবৃদ্ধি হারে (Compound Interest) সুদের জাদু দেখতে চান, তাহলে রয়েছে দারুণ খবর। কারণ, মাসে ১২,৫০০ টাকা জমিয়েই প্রায় ৭ কোটি টাকা জমাতে পারেন আপনি। সবথেকে বড় বিষয়, এখানে শেয়ার বাজারের মতো কোনও ঝুঁকি নেই। সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প (PPF) হওয়ায় পুরো টাকা নিশ্চিত গ্যারান্টি রয়েছে।
মাসে ১২,৫০০ টাকা জমিয়েই প্রায় ৭ কোটি
এখানে বিনিয়োগ করার আগে মনে রাখবেন, বর্তমানে PPF-এ সুদের হার ৭.১% (ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচিত)। আপনি কত বছর বয়স থেকে বিনিয়োগ শুরু করছেন, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার অবসরের (৬০ বছর বয়স) সময় কত টাকা জমবে। নীচে বয়স অনুযায়ী একটি হিসাব দেওয়া হল
২০ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে:
বিনিয়োগের সময়কাল: ৪০ বছর
মোট জমা (মূলধন): ৬০ লক্ষ টাকা
অর্জিত সুদ: প্রায় ২.৬৯ কোটি টাকা
৬০ বছর বয়সে মোট প্রাপ্তি (Maturity Payout): ৩.২৯ কোটি টাকারও বেশি
২৫ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে
বিনিয়োগের সময়কাল: ৩৫ বছর
মোট জমা (মূলধন): ৫২.৫০ লক্ষ টাকা
অর্জিত সুদ: প্রায় ১.৭৪ কোটি টাকা
৬০ বছর বয়সে মোট প্রাপ্তি: ২.২৬ কোটি টাকারও বেশি
৩০ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে
বিনিয়োগের সময়কাল: ৩০ বছর
মোট জমা (মূলধন): ৪৫ লক্ষ টাকা
অর্জিত সুদ: প্রায় ১.০৯ কোটি টাকা
৬০ বছর বয়সে মোট প্রাপ্তি: ১.৫৪ কোটি টাকা
৩৫ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে
বিনিয়োগের সময়কাল: ২৫ বছর
মোট জমা (মূলধন): ৩৭.৫০ লক্ষ টাকা
অর্জিত সুদ: প্রায় ৬৫.৫৮ লক্ষ টাকা
৬০ বছর বয়সে মোট প্রাপ্তি: ১.০৩ কোটি টাকা
কম্পাউন্ডিংয়ের আসল শক্তি: সন্তানদের নামে PPF অ্যাকাউন্ট (৬.৭৫ কোটির ফান্ড)
এক কথায় বলতে গেলে, এটি আর্থিক ক্ষেত্রে একটি ম্যাজিকের সমান। এই স্কিমে নাবালকদের জন্যও অভিভাবকরা যৌথভাবে PPF অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, যা সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলে সিঙ্গল অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হয়। অল্প বয়স থেকে বিনিয়োগের ক্ষমতা কতটা শক্তিশালী, তা নিচের হিসাব দেখলেই বোঝা যায়:
১০ বছর বয়স থেকে শুরু করলে: একটানা ৫০ বছর মাসে ১২,৫০০ টাকা (বছরে ১.৫ লক্ষ) জমালে মোট মূলধন বিনিয়োগ হবে ৭৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding) জেরে সুদ বাবদ আয় হবে ৬ কোটি টাকারও বেশি! ফলে ৬০ বছর বয়সে মোট প্রাপ্তি দাঁড়াবে ৬.৭৫ কোটি টাকা।
১৫ বছর বয়স থেকে শুরু করলে: ৪৫ বছর বিনিয়োগের পর মোট জমা হবে ৬৭.৫০ লক্ষ টাকা। সুদ মিলবে ৪.০৫ কোটি টাকারও বেশি এবং ৬০ বছর বয়সে মোট ফান্ড দাঁড়াবে ৪.৭২ কোটি টাকা।
দেরিতে বিনিয়োগ করলে কত বড় ক্ষতি ?
বিনিয়োগ শুরু করতে যত দেরি করবেন, চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা তত কমে যাবে।
৪০ বছর বয়সে শুরু করলে: ২০ বছরে ৩০ লক্ষ টাকা জমিয়ে অবসরের সময় মিলবে মাত্র ৬৬.৫৮ লক্ষ টাকা।
৪৫ বছর বয়সে শুরু করলে: ১৫ বছরে ২২.৫০ লক্ষ টাকা জমিয়ে ম্যাচুরিটিতে মিলবে মাত্র ৪০.৬৮ লক্ষ টাকা।
কেন বেছে নেবেন PPF ? একনজরে মূল সুবিধাগুলি
১ মেয়াদ ও এক্সটেনশন: PPF অ্যাকাউন্টের মূল মেয়াদ ১৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছর। তবে এরপর চাইলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ৫ বছরের ব্লকে এই মেয়াদ বাড়ানো যায়।
২ আয়করের সুবিধা : এটি সম্পূর্ণ EEE (Exempt-Exempt-Exempt) শ্রেণির আওতাভুক্ত। অর্থাৎ, বিনিয়োগ করা টাকা, অর্জিত সুদ এবং ম্যাচুরিটির সময় প্রাপ্ত মোট অর্থ—তিনটিই সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত।
৩ কর ছাড় : পুরনো কর কাঠামো অনুযায়ী আয়কর আইনের Section 80C-র অধীনে বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর ছাড় পাওয়া যায়। (নতুন কর কাঠামোয় এই সুবিধা নেই)।
৪ ঋণের সুবিধা: অ্যাকাউন্ট খোলার ১ বছর পর জমাকৃত ফান্ডের সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত অংশ ঋণ নেওয়ার জন্য কোল্যাটারাল বা বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
৫ টাকা তোলার নিয়ম: অ্যাকাউন্ট খোলার ৫ বছর পর বিশেষ প্রয়োজনে আংশিক টাকা তোলা যায়। আর ১৫ বছর পর সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন : পিপিএফে ৯০ লাখ টাকা হাতছাড়া করছেন আপনি ! পেতে পারেন ১.৪০ কোটি টাকা, জানুন কীভাবে ?
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Banking. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
তাপস দত্ত