We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Sebaashray scam : 'সেবার' আড়ালে দুর্নীতি ও লোক ঠকানোর খেলা! 'সেবাশ্রয়ে'র ওষুধও..., এ কোন অভিযোগ ?
কলকাতা : সাংসদ থেকে এক সময় ডায়মন্ডহারবারের 'হিরো' হয়ে উঠেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের সেবায় নিজেকে নিমজ্জিত করেছিলেন। তৈরি করলেন সেবাশ্রয়। কিন্তু এর পেছনে যে চলছিল অন্য খেলা, কেউ গুনাক্ষরে বুঝতেই পারেননি। বিধানসভা নির্বাচনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় কর্মসূচি ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। একের পর এক দুর্নীতি ও 'কারনামার' কথা প্রকাশ্যে আসছে। এবার তৃণমূল বিধায়কের আত্মীয়ের ফার্ম হাউস থেকে উদ্ধার ট্রাক ট্রাক ওষুধ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, গত ১০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিঞ্চেবেড়িয়ার ফার্ম হাউসে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। তাতেই পর্দাফাঁস।
নামে 'সেবাশ্রয়'! অভিযোগ, তাতে 'সেবার' আড়ালে চলেছে দুর্নীতি, জালিয়াতি আর লোক ঠকানোর খেলা। চিকিৎসক, ডায়গনাস্টিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার মতো ভুরি ভুরি অভিযোগ আগেই উঠেছিল। আর এবার শিরোনামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্পের ওষুধ। একটি দুটি ওষুধ নয়, একেবারে ট্রাক ট্রাক মেডিসিন উদ্ধার। কোথাও মাটির নীচে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। কোথাও ফেলে দেওয়া হয়েছে জলে। আবার চেষ্টা হয়েছে পুড়িয়ে দেওয়ারও। কিন্তু কেন এই চেষ্টা? তবে কী সব ওষুধই জাল? ভুয়ো ওষুধ খাইয়ে মানুষকে বোকা বানাচ্ছিল অভিষেকের সেবাশ্রয়? উঠেছে প্রশ্ন।
ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানার অন্তর্গত হিঞ্চেবেড়িয়া। এখানেই মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ শামিম আহমেদ মোল্লার এক আত্মীয়ের ফার্মহাউস থেকে উদ্ধার হয় ওষুধের পাহাড়। সেবাশ্রয় নিয়ে যে অভিযোগ জমা পড়েছে, তাতে নাম রয়েছে অভিষেক ঘনিষ্ঠ এই শামিম আহমেদের। এই গুদাম শামিমেরই এক আত্মীয়ের। এখানেই গতমাসে অভিযান চালায় পুলিশ। পে লোডার দিয়ে খুড়ে ১০ ট্রাক ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সব ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ নয়। ২০২৭-এর অক্টোবর পর্যন্ত রয়েছে মেয়াদ। আই ড্রপও রয়েছে। তারও ফুরোয়নি। এখানেই প্রশ্ন রোগীদের যে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তা কি নিরাপদ ছিল?
শুধু কি ওষুধ, ফার্ম হাউসের গোডাউনের বন্ধ দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। বেড রয়েছে, স্ট্রেচার, ট্রলি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। ক্যাম্প শেষের পর কী করে তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠের গুদাম ঘরের মধ্যে রয়ে গেল? কে পাঠিয়েছিলেন, কারা পাঠিয়েছিলেন? উঠছে প্রশ্ন। পাশাপাশি, বেশকিছু জায়গায় নথিপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণও মিলেছে। পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে সেবাশ্রয়ের নানা সরঞ্জাম, সেবাশ্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যানার, একাধিক ওষুধ, চিকিৎসার উপকরণ ও তৃণমূলের প্রতীক।
এই ঘটনায় ৭ জুলাই পারুলিয়া কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়, জাহাঙ্গির খান, মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদ মোল্লা-সহ একাধিক জনের নাম রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
অরিন্দম প্রধান