Success Story: ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন, চোখের কম দৃষ্টির জন্য একাধিক পরীক্ষায় ব্যর্থ, কটূক্তি শুনেছিলেন মা, লড়াই করে IPS হয়ে সাফল্যর শিখরে নবনীত

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
নয়া দিল্লি: সাফল্যের গল্প কখনওই সরলরেখায় এগোয় না। তার পথে থাকে ব্যর্থতা, হতাশা, অনিশ্চয়তা আর আত্মবিশ্বাসের কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু যারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন, তাঁদের গল্পই একদিন অন্যদের পথ

নয়া দিল্লি: সাফল্যের গল্প কখনওই সরলরেখায় এগোয় না। তার পথে থাকে ব্যর্থতা, হতাশা, অনিশ্চয়তা আর আত্মবিশ্বাসের কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু যারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন, তাঁদের গল্পই একদিন অন্যদের পথ দেখায়। তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম নবনীত আনন্দ। তিনি শুধু প্রতিকূলতাই জয় করেননি, বরং মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্বের কাছে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ।

UPSC— ভারতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মুখ দেখেন খুব কম জনই। সেই কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেই নিজের জায়গা করে নিয়েছেন নবনীত আনন্দ। তবে তাঁর এই সাফল্য একদিনে আসেনি। 

প্রথম দুই প্রচেষ্টা ব্যর্থ, তবুও থামেননি

ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী নবনীত আনন্দ বিহারের পূর্ণিয়া জেলার হরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজস্থানের চিতোরগড়ের সৈনিক স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমিতে যোগ দেওয়ার, কিন্তু ক্ষীণদৃষ্টির কারণে তাঁর সেই স্বপ্ন ব্যাহত হয়। অনেকেই প্রথম বা দ্বিতীয়বার ব্যর্থ হওয়ার পর নিজের স্বপ্ন থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু নবনীতের গল্প আলাদা। তিনি জানতেন, ব্যর্থতা শেষ নয়, বরং আরও ভালোভাবে ফিরে আসার সুযোগ।

প্রথম প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর তিনি নিজের দুর্বলতাগুলি খুঁজে বের করেন। দ্বিতীয়বারও সাফল্য না আসায় হতাশা অবশ্যই ছিল, কিন্তু লক্ষ্য থেকে চোখ সরাননি। বরং আগের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেন।

শৈশবে নবনীত তাঁর বাবাকে হারান। তিনি এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তার মা তাকে বড় করে তোলেন। তাকে আর্থিক কষ্ট এবং মানুষের অসংবেদনশীল মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়তে রাজি হননি এবং সাফল্য অর্জন করেন। নবনীত তার সাফল্যের কৃতিত্ব তার মাকে দেন। তিনি বলেন যে তার মাকে অনেক বিদ্রূপ সহ্য করতে হয়েছে। কেবল এখন তিনি সুখ খুঁজে পেয়েছেন। আমার সাফল্য যতটা আমার, ততটাই আমার মায়ের।

নিজের উপর বিশ্বাসই বদলে দেয় ভাগ্য

নবনীতের মতে, UPSC-র প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু পড়াশোনা নয়, মানসিক দৃঢ়তা। দীর্ঘ সময় ধরে একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা সহজ নয়। চারপাশে যখন বন্ধুরা চাকরি করছে, জীবনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া সত্যিই কঠিন।

কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, একদিন না একদিন পরিশ্রমের ফল মিলবেই। আর সেই বিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

এনডিএ-তে প্রবেশ করতে না পেরে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নবনীত খুব অল্প বয়সেই সিআইএসএফ-এ সহকারী কমান্ড্যান্ট হিসেবে চাকরি পান। এই পদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। তিনি সিডিএস এবং ইউজিসি নেট জেআরএফ পরীক্ষাও পাশ করেন। এই সময়ে তিনি ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি চালিয়ে যান। প্রথম দুই চেষ্টায় তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও হাল ছাড়েননি এবং প্রস্তুতি চালিয়ে যান। ২০২৩ সালে নভনীত তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৪৯৯তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নভনীত ইউপিএসসি মেইনস পরীক্ষায় মোট ৯৫২ নম্বর, লিখিত পরীক্ষায় ৭৬৭ এবং পার্সোনালিটি টেস্টে ১৮৫ নম্বর পেয়েছিলেন।  

অবশেষে আসে সেই দিন। UPSC Civil Services Examination-এ তৃতীয় প্রচেষ্টায় অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক (AIR) 499 অর্জন করেন নবনীত আনন্দ। যে স্বপ্নের জন্য বছরের পর বছর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছিলেন, তা অবশেষে বাস্তব হয়।

ফল প্রকাশের দিন শুধু নবনীত নয়, আনন্দে ভেসেছিল তাঁর পরিবারও। কারণ এই সাফল্যের পিছনে ছিল তাঁদেরও অসীম সমর্থন এবং বিশ্বাস।

আরও পড়ুন, মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ১৯টি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য চারু পাণ্ডের, প্রস্তুতির কোন কৌশলেই বাজিমাত?

সাফল্যের আসল মন্ত্র কী?

নবনীতের গল্প থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট— সাফল্য প্রতিভার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে ধারাবাহিকতার উপর। তিনি কখনও রাতারাতি সাফল্যের স্বপ্ন দেখেননি। বরং প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছেন।

তাঁর মতে—

"ব্যর্থতা আপনাকে থামাতে পারে না, যদি আপনি নিজে থেমে না যান।"

তরুণদের জন্য বড় শিক্ষা

আজকের দিনে অনেক তরুণ-তরুণী একবার ব্যর্থ হলেই ভেঙে পড়েন। কিন্তু নবনীত আনন্দের গল্প শেখায়, লক্ষ্য যদি স্পষ্ট থাকে এবং নিজের উপর বিশ্বাস অটুট থাকে, তাহলে সাফল্য একদিন না একদিন আসবেই।

দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পরও যে যুবক নিজের স্বপ্ন ছাড়েননি, সেই যুবকই আজ UPSC-র মতো কঠিন পরীক্ষায় সাফল্যের পতাকা উড়িয়েছেন। তাই পথ যত কঠিনই হোক, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নামই আসল জেদ, আর সেই জেদই একদিন সাফল্যের গল্প লিখে দেয়।

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Education. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - Education

Read Previous

Kalyan Banerjee: 'অভিষেকের...

Read Next

Guru Gochar 2026: ১২ বছর পর...