Taratala Accident: 'ফোন ধরে বলেছিল.. বড় দুর্ঘটনা, তারপরে আর...', তারাতলায় কাজ করতে এসেছিলেন এই প্রথম, ফেরা হল না শ্যামনগরের শ্রমিকের!

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
কলকাতা: কেউ নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিন কাজে গিয়েছিলেন। কেউ একটু বাড়তি রোজগারের আশায়। কিন্তু কে জানত, জীবনের শেষ দিনটা হবে ওই কাজের জায়গাতেই।

কলকাতা: কেউ নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিন কাজে গিয়েছিলেন। কেউ একটু বাড়তি রোজগারের আশায়। কিন্তু কে জানত, জীবনের শেষ দিনটা হবে ওই কাজের জায়গাতেই। তারাতলা বিপর্যয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, অন্ধকার নেমে এসেছে এক একটা পরিবারে।

বাড়ির একমাত্র রোজগেরে, তারাতলায় কাজ করতে এসেই মৃত্যু!

বাড়ির একমাত্র রোজগেরে মানুষটা আজ আর নেই। এখন কে তাহলে সংসার চালাবে? কে ভাত জোটাবে? কে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করবে? কিচ্ছু জানে না পাপ্পু রজকের বাড়ির লোকজন। তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ে মৃত্যু হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের বাসিন্দা পাপ্পু রজকের, বয়স ৩৮ বছর। তারপর অন্ধকার নেমে এসেছে তাঁর বাড়িটায়। মৃত পাপ্পু রজকের স্ত্রী বলছেন, 'রাজমিস্ত্রির কাজ করত। কিন্তু মেয়ের ভীষণ স্বপ্ন ছিল। বলত, আমি দিনরাত কাজ করে তোকে কিছু করব। কিন্তু এখন ওর স্বপ্ন কে পূরণ করবে? আমরা দিন আনি, দিন খাই। আমাদের তো ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স নেই, যে রেখে যাবে।'

প্রথম দিনে কাজ করতে এসেই মৃত্যু!

তারাতলার গোডাউনে প্রথম দিনে কাজ করতে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডলের। বয়স ৫৩ বছর। মৃত স্বপন মণ্ডলের স্ত্রী লক্ষ্মী মণ্ডল বলছেন, 'প্রথম দিনই কাজে গিয়েছিল। তারপরে সকালবেলা কথা হয়েছে ওঁর সঙ্গে আমার। সাড়ে পাঁচটার পর থেকে ওঁকে ফোনে পাচ্ছি না। সাড়ে ৮টা অবধি ফোন করেছি। সর্দার একবার (ফোন) ধরল, ধরে বলল যে আমাদের এখানে বিশাল একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। আমাদের অবস্থা ভাল না। বলে উনি আর কথা বলতে পারেননি।'

তারাতলাকাণ্ড নিয়ে কী বলছে নেতৃত্ব?

শুক্রবার জগদ্দলে পাপ্পু রজক ও শ্যামনগরে স্বপন মণ্ডলের বাড়িতে যান এলাকার বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার। জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার বলছেন, 'এদের পরিবারে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা কেউ পূরণ করতে পারবে না। আমরা স্বপনবাবুকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারব না। আমি পরিবারের কাছে এসে দাঁড়ালাম। আমি আমাদের লোকপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীজিকে আবেদন করব, যেন উনি পরিবারের মধ্যে কোনও একজন লোককে এরকম কিছু ব্যবস্থা করে, যাতে ওদের পরিবার ঠিক মতো চলতে পারে।'

শুক্রবারও তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বুধবারের ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা খালেক সর্দার। শুক্রবার মৃত্যু হয় তাঁর। তারাতলা বিপর্যয়কাণ্ডে নতুন করে যে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন হলেন, সুমন কর্মকার। পেশায় ঢালাই মিস্ত্রি। তিনিও উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা। এখনও বেশ কয়েকজন জখম শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে SSKM-এ। এদিন তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তারাতলাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নবান্ন। এদিন তাঁর সদস্য হিসেবে ঘটনাস্থলে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে ও অন্যান্যরা।

আরও পড়ুন: Anupam Kher: ২৬ বছর পরে বাংলা ছবিতে অনুপম খের, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কী অনুরোধ?

 

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - Districts

Read Previous

Suvendu Adhikari News: 'প্ল্যান...

Read Next

Taratala News: "এক মুঠ ভাত,...