We currently don't have news in this language. Please choose another language.
West Burdwan: ধসে পড়ল ইসিএলের ৭০ বছরের পুরনো জলের ট্যাঙ্ক, গুরুতর জখম ২ কর্মী
মনোজ বন্দ্যোপাধ্য়ায়, পশ্চিম বর্ধমান: ভেঙে পড়ল ৭০ বছরের পুরনো ইসিএলের জলের ট্যাঙ্ক। ২ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থানার অন্তর্গত ইসিএলের বাকলা এরিয়ার শ্যামসুন্দরপুর (চনচনি) কোলিয়ারিতে বুধবার ভোরে ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। প্রায় ৭০ বছরের পুরনো কংক্রিটের বিশাল জলের ট্য়াঙ্কটি আচমকাই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে সকাল ৬.৩০ নাগাদ। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হন ইসিএলের দুই কর্মী সঙ্গীতা দেবী (৫০) ও প্রভাবতী ভূঁইয়া (৫০)। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। তবে অল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত কয়েকদিন ধরে নিম্নচাপের জেরে খনি এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত চলছে। তারই মধ্যে হঠাৎ জলের ট্যাঙ্কের ধসে পড়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এই ট্য়াঙ্ক থেকেই প্রায় হাজারখানেক মানুষের পানীয় জলের সরবরাহ হয়। ফলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি এখন দেখা দিয়েছে তীব্র জলসংকটের আশঙ্কাও। ঘটনার পরই ইসিএলের বিরুদ্ধে রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে কোলিয়ারির বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় একাধিক পুরনো আবাসন বিপজ্জনক ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হলেও, একই সময়ে এই প্রায় সাত দশকের পুরনো জলের ট্যাঙ্কটিকে শুধুমাত্র নামমাত্র মেরামত করে ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও স্থায়ী সংস্কার বা নতুন জলের ট্যাঙ্ক নির্মাণের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।
শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, 'এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল। আজ দু'জন আহত হয়েছেন, কাল আরও বড় প্রাণহানি ঘটতে পারে।' তাঁদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে ও অবিলম্বে নতুন জলের ট্যাঙ্ক নির্মাণ করে এলাকার মানুষের নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে।
দুর্ঘটনার পর ইসিএলের পক্ষ থেকে গোটা এলাকা ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ইসিএলের নীরবতা ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এখন দেখার, এই গুরুতর ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কেবল তদন্তেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Districts. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
গৌতম রায়