We currently don't have news in this language. Please choose another language.
Bengal Cricket: সিএবির এজিএমে 'থ্রেট কালচার'! বাঁকুড়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়, বিতর্কে পুড়ছে বাংলার ক্রিকেট
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: কার্যকরী সমিতির সভা করে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সিএবি প্রদত্ত ফর্ম ফিল আপ, সইসাবুদও সাড়া হয়ে যায়। অথচ শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় প্রতিনিধির নাম। বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার তৎকালীন সচিব অতনু দে-র নাম কেটে প্রতিনিধি হিসাবে পাঠানো হয় আশিস চক্রবর্তীকে। নেপথ্যে 'থ্রেট কালচার'!
চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ করল বাঁকুড়া জেলা ক্রিকেট সংস্থা। জানাল, সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় কে যাবেন, তা নিজেদের বৈঠকে ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে বদলে দেওয়া হয় প্রতিনিধির নাম। যার নেপথ্যে 'রাজনৈতিক প্রভাব', 'হুমকি', 'হুঁশিয়ারি'! যে অভিযোগ বাংলা ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন করে তোলপাড় ফেলেছে।
ঘটনাটি আচমকা প্রকাশ্যে এসেছে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি আশিস চক্রবর্তী সিএবি অ্যাপেক্স কমিটি থেকে পদত্যাগ করায়। বয়স সত্তর পেরিয়ে গিয়েছে বলে লোঢা আইন অনুযায়ী অ্যাপেক্স কমিটি থেকে সরে দাঁড়ান আশিস। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র দেন তিনি।
তারপরই বোমা ফাটালেন বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার দুই কর্তা। একজন প্রাক্তন। অন্যজন বর্তমান। বাঁকুড়া ডিএসএ-র প্রাক্তন সচিব অতনু দে-র অভিযোগ, তাঁকে সরিয়ে 'বলপূর্বক' সিএবি-তে পাঠানো হয়েছিল আশিসকে। এবিপি লাইভ বাংলাকে অতনু বললেন, 'বাঁকুড়া জেলা ক্রিকেট সংস্থার স্পেশ্যাল এজিএমে ঠিক হয়, আমাকে প্রতিনিধি করে সিএবি এজিএমে পাঠানো হবে। আমি সেই সময় বাঁকুড়া ডিএসএ-র সচিব ছিলাম। ফর্ম ফিল আপও করা হয়ে গিয়েছিল। সেখানে আমার নাম ছিল। তারপর আমাদের এগজিকিউটিভ বডির বিভিন্ন সদস্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। গভীর রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ফোন করেন। বলা হয়, যেন আশিস চক্রবর্তীকে পাঠানো হয়। তারপর ওই ফর্মে আমার নাম কেটে ওঁর নাম বসানো হয়। আমি ও সেই সময়কার কার্যকরী সভাপতি গৌতম দাস সই করতে বাধ্য হই।' অতনু তাৎপর্যপূর্ণভাবে যোগ করলেন, 'তবে এই ব্যাপারে শুধু আশিস চক্রবর্তী নন, আরও অনেকেই যুক্ত ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের হাতে কোনও রাস্তাও ছিল না।'
আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন সুদীপ চক্রবর্তী। যিনি বাঁকুড়া জেলা ক্রিকেট সংস্থার বর্তমান কার্যকরী প্রেসিডেন্ট। এবিপি লাইভ বাংলাকে সুদীপ বললেন, 'আমি নভেম্বর মাসে এই দায়িত্বে এসেছি। গতবার সিএবি-র এজিএমে বাঁকুড়া ডিএসএ-র তৎকালীন সচিব অতনু দে-কে পাঠানোর কথাই বৈঠক করে চূড়ান্ত হয়েছিল। পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে ধমকানো, চমকানো হয় এবং আশিস চক্রবর্তীর নাম পাঠানো হয় সিএবি-তে। বাঁকুড়ার সাংসদও যুক্ত ছিলেন। এমনকী, প্রতিনিধির নাম বদলের জন্য তৃণমূল ভবনে ডেকেও ধমক-চমক দেওয়া হয়েছিল।'
আশিস ইস্তফা দেওয়ায় ২০ জুলাই সিএবির বিশেষ সাধারণ সভায় কে বাঁকুড়া জেলার প্রতিনিধিত্ব করবেন? যে সভায় সিএবি-র যুগ্মসচিব নির্বাচন হবে? সুদীপ বললেন, 'কাকে পাঠানো হবে, আমাদের এজিএম করে সেটা চূড়ান্ত হবে। সিএবি-কে এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে সেটা জানানোও হয়েছে। আমরা চাই পুরোটা স্বচ্ছতার সঙ্গে হোক। থ্রেট কালচার আর চলবে না।'
যদিও এ ব্যাপারে সিএবি-র করণীয় কিছু ছিল না বলে জানালেন সিএবি-র প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। যিনি সেই সময় বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার মসনদে ছিলেন। বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে স্নেহাশিস বললেন, 'এটা সম্পূর্ণ ওদের নিজস্ব ব্যাপার। কোনও জেলা সংস্থা কাকে প্রতিনিধি করে পাঠাবে, এ ব্যাপারে সিএবি-র কিছু করার নেই। কারণ সেটা আমাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এটা সম্পূর্ণ সেই সংস্থার সিদ্ধান্ত।'
যদিও বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন ও বর্তমান - দুই কর্তার বিস্ফোরণের পর সিএবি-তে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এর আগে মেদিনীপুর ও নদিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকেও একইরকম অভিযোগ উঠেছিল। বলা হয়েছিল, সিএবি-র বার্ষিক সভায় প্রতিনিধি পাঠানো নিয়ে 'রাজনৈতিক প্রভাব' খাটানো থেকে শুরু করে 'থ্রেট কালচার', কিছুই বাদ ছিল না। বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্তারাও মুখ খোলায় ময়দান সরগরম। অনেকেই বলছেন, একের পর এক অনুমোদিত সংস্থা থেকে অভিযোগ উঠছে যেখানে, সেখানে তো গতবার সিএবি-র এজিএমের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ যেখানে 'ভয় আউট, ভরসা ইন'-এর বার্তা দিচ্ছেন, সেখানে খেলার ময়দানে বারবার 'থ্রেট কালচার'-এর অভিযোগ সিএবি-রই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে না তো?
Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - Sports. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.
সন্দীপ সরকার