Snana Yatra 2026 : ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেই পুরীতে প্রভু জগন্নাথের 'স্নান যাত্রা', 'গজ বেশ' চাক্ষুষ করলেন লক্ষাধিক ভক্ত

Audio Narrative Assistant
Executive Summary
পুরী : তীব্র গরম ও আর্দ্রতা উপেক্ষা করে লক্ষাধিক ভক্তের ঢল নামল ওড়িশার পুরীতে। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথির স্নান যাত্রায় ধর্মীয় রীতি মেনে জগন্নাথ দেব, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে স্নান বেদীতে নিয়ে এসে স্নান করানো হল মহাসমারোহে।

পুরী : তীব্র গরম ও আর্দ্রতা উপেক্ষা করে লক্ষাধিক ভক্তের ঢল নামল ওড়িশার পুরীতে। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথির স্নান যাত্রায় ধর্মীয় রীতি মেনে জগন্নাথ দেব, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে স্নান বেদীতে নিয়ে এসে স্নান করানো হল মহাসমারোহে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে যা অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ রীতি। দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক ভক্ত দেখলেন সেই 'স্নান যাত্রা।' এরপরই ‘গজ বেশ’ (হাতির সাজ), যা ‘গজানন বেশ’ নামেও পরিচিত, সেই সাজে তাঁদের সাজিয়ে তোলা হল। প্রতি বছর ‘স্নান পূর্ণিমা’ (পবিত্র স্নানের পূর্ণিমা তিথি) উপলক্ষে এই বিশেষ সাজের আয়োজন করা হয়। এই দিনটিতে মহাসমারোহে স্নানপর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে এক অনন্য রূপে সজ্জিত করা হয়—এমন এক দৃশ্য যা দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তকে পুরীতে সমবেত করে। এই 'স্নান যাত্রা' বার্ষিক রথযাত্রা উৎসবেরও সূচনা-পর্ব।

প্রথা অনুযায়ী, পুরীতে স্নান যাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র ও মদনমোহন বিগ্রহকে জগন্নাথ মন্দির থেকে স্নানবেদীতে বের করে আনা হয় প্রতিবার। বা, বলতে গেলে, ঐতিহ্য মেনে, 'জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা' বা 'দেব স্নান পূর্ণিমা' উপলক্ষে শঙ্খধ্বনি ও "হরি বোল" ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রভু জগন্নাথ, প্রভু বলভদ্র, দেবী সুভদ্রা এবং চক্ররাজ সুদর্শন-এর 'মূল বিগ্রহ' (কাঠের তৈরি মূল প্রতিমা)-কে গর্ভগৃহ থেকে আনুষ্ঠানিক 'পহণ্ডি' শোভাযাত্রায় বাইরে নিয়ে আসা হয়। এদিন দেবতাদের সুউচ্চ 'স্নান মণ্ডপ'-এ স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে গ্র্যান্ড রোডে সমবেত ভক্তরা পবিত্র স্নান অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করতে পারেন। সেখানে তাঁদের প্রথাগতভাবে স্নান করানো হয় এবং ভক্তদের দর্শনের জন্য সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত করা হয়। মন্দিরের উত্তর দিকের কূপ থেকে জল এনে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তার শুদ্ধিকরণ করা হয় বরাবর। ১০৮টি কলসে সেই জল নিয়ে জগন্নাথ বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহকে স্নান করানো হয়। সেই প্রথা এদিন চাক্ষুষ করলেন অসংখ্য ভক্ত। শুধু পুরী নয়, জগন্নাথ দেবের সমস্ত মন্দিরেই এই দিনটি জাঁকজমক করে পালিত হয়। এই দিনটিতে পুণ্যতিথি উপলক্ষ্যে বহু মানুষের সমাগম হয়। 

ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনতেই আবির্ভূত হয়েছিলেন জগন্নাথ দেব। এ নিয়ে স্বাস্ত্রে বহু গল্প প্রচলিত রয়েছে। তারমধ্যে একটি থেকে জানা যায়, প্রথম মন্বন্তরে ব্রক্ষার পুত্র শ্রীস্বায়ম্ভুব মনু একবার পৃথিবীতে পরমেশ্বর ভগবানের দর্শনের অভিলাষে একটি মহাযজ্ঞ করেছিলেন, সেই যজ্ঞের প্রভাবেই শ্রী জগন্নাথদেবের আবির্ভাব। সেই দিনটি ছিল জৈষ্ঠ্যমাসের পূর্নিমা তিথি। সেই থেকেই এই বিশেষ দিনটি স্নানযাত্রা হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

Disclaimer: This content is aggregated dynamically from public feeds distributed by ABP Ananda - India. It has not been created, edited, or verified by our team. View our full terms on the policy page.

Published Via: ABP Ananda - India

Read Previous

Suvendu Adhikari: ভিটা-মাটি...

Read Next

Nadia News: গ্রেফতার...